বুধবার
২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীর সাবেক ইউএনও’র বেতন স্থগিত

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

ভূমিহীনদের জন্য সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সাবেক ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হককে শাস্তি দিয়েছে সরকার।

তার এক বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৫ শাখা গত ২৩ জুলাই এই শাস্তি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

উল্লেখ্য, ঘটনার সময় ইউএনওর দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্বেও ছিলেন।

কলাপাড়া উপজেলার ভূমিহীন মানুষদের মধ্যে দুই শতাংশ করে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই লক্ষ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শহিদুল হক ১৯৫টি কবুলিয়তের প্রস্তাব তৈরি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠান।

এরপর নিজ কার্যালয় থেকে তা জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় এবং জেলা প্রশাসক ওই ১৯৫টি বন্দোবস্ত কবুলিয়তের প্রস্তাব অনুমোদন করেন।

অনুমোদিত এই কবুলিয়তগুলো নিবন্ধনের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. হুমায়ুন কবিরকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়ে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সার্ভেয়ার তাঁকে দেওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করেন।

তিনি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অনুমোদিত দুই শতাংশের পরিবর্তে বিভিন্ন পরিমাণ জমি যেমন, ০.০৩, ০.১০, ১.০০, ১.৫০, ২.০০ এবং ৩.০০ একর পর্যন্ত উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কোনো অনুমোদন ছাড়াই মোট ৪২টি ভুয়া বন্দোবস্ত কবুলিয়ত তৈরি করেন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, শহিদুল হক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই ওই ৪২টি ভুয়া কবুলিয়তে স্বাক্ষর করে দেন। এর ফলে মোট ৭১ দশমিক ৬৩ একর সরকারি খাসজমি অব্যবস্থাপনার শিকার হয়, যা সরকারের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এই কাজকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ২০২৫ সালে শহিদুল হকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগের জবাবে তিনি লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন জানান।

সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর তাঁর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে শুনানিতে দেওয়া তার বক্তব্য সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়।

তদন্ত কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে অনুমোদিত সীমার বাইরে গিয়ে অস্বাভাবিক সংখ্যক কবুলিয়ত তৈরি হওয়া, জমির পরিমাণে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে দৃশ্যমান কাটাছেঁড়ার চিহ্ন থাকা।

তদন্ত কর্মকর্তার মতে, এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঠিকভাবে যাচাই না করেই স্বাক্ষর দেওয়াটা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে স্পষ্ট অবহেলার প্রমাণ বহন করে। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তিনি প্রতিবেদনে জানান, শহিদুল হকের বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী শহিদুল হকের এক বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার লঘুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন