শুক্রবার
২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জামায়াত নেতার পদত্যাগ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
মো. খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী
expand
মো. খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক ওয়ার্ড নেতা দলীয় পদ ও সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পটুয়াখালীর মহিপুর সদর ইউনিয়নের নিজামপুর ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী এ ঘোষণা দেন।

তবে তার ওই বিবৃতি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়। দীর্ঘদিন সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা খলিলুর রহমান তার ঘোষণায় দলীয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার কথা জানান।

বিবৃতিতে খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী বলেন, সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি সবসময় ন্যায়, ইনসাফ ও নৈতিক মূল্যবোধের পক্ষে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের কিছু কেন্দ্রীয় ও উচ্চপর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তার নজরে এসেছে।

এসব অভিযোগ তার ব্যক্তিগত আদর্শ ও বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তিনি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, তার বিবৃতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ইসলাম’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। তার মতে, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নামের সঙ্গে ইসলাম যুক্ত থাকলেই তা ইসলামের প্রকৃত আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে না। মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় তার কর্ম ও চরিত্রের মাধ্যমে।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনো বক্তব্য বা আচরণের মাধ্যমে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

এ বিষয়ে মহিপুর সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির তোফাজ্জল হোসেন সিপাহি বলেন, ৫ আগস্টের পর খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। এরপর তিনি দুই থেকে তিন মাস সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। পরে তিনি কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি এবং সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখেননি।

তিনি বলেন, খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত জমিজমা সংক্রান্ত একটি বিরোধ ছিল, যা সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া একজনের কাছে তার পাওনা প্রায় তিন লাখ টাকা আদায়ের বিষয়েও সংগঠন কোনো দায়িত্ব নেয়নি। এসব কারণে তিনি ধীরে ধীরে সংগঠন থেকে দূরে সরে গেছেন বলে আমরা মনে করি।

তোফাজ্জল হোসেন সিপাহি আরও দাবি করেন, খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী এখন পর্যন্ত সংগঠনের কাছে কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেননি। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল নেতারা আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন