

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান মনির বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে কাগমারী এলাকার খাজা মেসে এ ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আবাসিক মেসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সহপাঠীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে খাজা মেসের তৃতীয় তলার বারান্দায় তিন বন্ধু একসঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন।
বারান্দাটিতে কোনো গ্রিল বা নিরাপত্তা রেলিং ছিল না। কথোপকথনের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত মনিরের হাত একটি খোলা বৈদ্যুতিক তারে স্পর্শ করলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
একই কক্ষে থাকা দুই সহপাঠী জানান, মুহূর্তের মধ্যেই বিদ্যুতের প্রবল প্রবাহ তার শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তারা পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই তার শরীর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এতে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে থাকা পুকুরে পড়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুকুরে পড়ার পর তিনি একবার চিৎকার করেছিলেন, সেটিই ছিল তার জীবনের শেষ চিৎকার।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে দ্রুত টাঙ্গাইল সদর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত ১২টা ২২ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা আবাসিক মেসটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, খাজা মেসে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল। বিশেষ করে তৃতীয় তলার বারান্দায় কোনো নিরাপত্তা রেলিং ছিল না এবং ভবনের পাশ দিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইন চলে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের ছাত্রাবাস ও মেসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের ভাষ্য, একজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানির পরও যদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থাকবে।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ, আইসিটি বিভাগের সভাপতি, বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা টাঙ্গাইল সদর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান।
মনির আইসিটি বিভাগের ২২তম ব্যাচের এবং প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর জেলায়।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির বলেন, নিহত শিক্ষার্থীর স্মরণে আগামী শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দিনের শোক পালনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহপাঠীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আবাসিক মেসগুলোতে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।