সোমবার
২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে ভেকু দিয়ে চেয়ারম্যানের বসতঘর গুঁড়িয়ে লুটপাট, শেষে আগুন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি
expand
ছবি: প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় মাদবখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান লাভলুর বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত চলা এই তাণ্ডবে লুট হয়েছে ঘরের ব্যবহারিক মালামাল, শেষে ছয়টি কক্ষে দেওয়া হয়েছে আগুন। চেয়ারম্যান লাভলুর মা অসুস্থ থাকায় তাঁরা পরিবারসহ ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।

মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পির অভিযোগ, শাশুড়ি অসুস্থ থাকায় তাঁরা পরিবারসহ ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই ও মাদবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী পাশা, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ হাওলাদার এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের নেতৃত্বে দুই থেকে আড়াই শতাধিক ব্যক্তি এক্সকাভেটর (ভেকু মেশিন) দিয়ে তাঁদের বসতঘর ভেঙে ফেলে। ঘর ভাঙা শেষে সেখানে থাকা চারটি ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিনসহ পরিবারের ব্যবহারযোগ্য সব মালামাল লুট করে ছয়টি কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

মেহেরুন্নেছা আরও বলেন, হামলার আগে কাঠালতলি বাজারের ব্যবসায়ীদের ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং উপস্থিত লোকজনের কাছ থেকে মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। তাঁদের বাড়ির পাশেই কাঠালতলি পুলিশ ফাঁড়ি হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয় বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাঠালতলি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এতে তাঁর প্রায় দেড় কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে শাহিন চৌধুরী পাশা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিজানুর রহমান লাভলু একটি পাবলিক লাইব্রেরির জমি দখল করে বসতঘর তুলেছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব শুরু হয় বলে তিনি শুনেছেন, তবে জমিসংক্রান্ত বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা নেই বলে জানান। হামলা-অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে কারা জড়িত জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, গতকাল শুক্রবার তিনি ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছেন, তাই ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন।

মাদবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন,মিজানুর রহমান লাভলু পাবলিক লাইব্রেরির জমি দখল করে ঘর তুলেছেন,যা ভূমি অফিসের মাধ্যমে প্রমানিত। সেখানে তার এক টুকরো জমিও নাই।

প্রশাসনের মাধ্যমে ঘরটি না ভেঙে তিনি সরাসরি অংশ নেয়ার প্রশ্নে বলেন,‘বিগত দিনে বিএনপি কিন্তু প্রশাসন ব্যবহার করেননি। তাছাড়াও তারা (মিজানুর রহমান) সারা দেশে জবরদখল করছে। এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বাসায় তিনবার হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। আমরা চাইলে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ঘরটি ভাঙতে পারতাম,সেটি না করে পাহারা দিয়েছি। অভিযুক্ত আরেকজন নেতা মেহেদী হাসান পলাশ হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

মাদবখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান (লাভলু) বলেন, জমি ক্রয় করে বাড়ি তুলেছি। কোন বিরোধী জমি কিংবা দখল করি নাই।

মির্জাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, শনিবার সকাল ৬টা ৮ মিনিটের দিকে সরকারি নম্বরে কল পেয়ে তাঁদের একটি দল মাদবখালী ইউনিয়নের কাঠালতলি বাজারের উত্তর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, মিজানুর রহমানের বসতঘরে আগুন জ্বলছে এবং ঘরের সামনের অংশ ভাঙা। পরে তাঁরা ভেতরে ঢুকে চারটি কক্ষের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, শনিবার ভোররাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা এক্সকাভেটর দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লাভলুর বসতঘর ভেঙে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘরে কেউ না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল বলেন, শনিবার ভোররাতে ফায়ার সার্ভিসের কল পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন, তবে স্থানীয়রা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি কাঠালতলি পুলিশ ফাঁড়িকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন