

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও ৬ জেলের কোনো সন্ধান মেলেনি। তবে দুর্ঘটনার শিকার আরও ৫ জেলেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে দুজন এখনো গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক মঙ্গলবার রাতে মুঠোফোনে নিখোঁজদের উদ্ধার না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত রোববার (৫ জুলাই) পায়রা সমুদ্রবন্দর–সংলগ্ন এলাকা থেকে আনুমানিক ১০০-১৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলার ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ১১ জন মাঝিমাল্লার মধ্যে ৫ জন জীবিত উদ্ধার হলেও বাকি ৬ জনের এখনো হদিস মেলেনি।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের মো. ফোরকান হাওলাদার (৪৫), তাঁর ছেলে সাইদুল ইসলাম (১৯), একই এলাকার আল আমিন (৪৫); পানপট্টি ইউনিয়নের হারুন মিয়া (৪০) ও এমাদুল (৩০); এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পাক্ষিয়া গ্রামের আকাশ (২২)। এই ছয়জনের বাড়ি আগুনমুখা নদীতীরবর্তী এলাকায়।
ডুবে যাওয়া ট্রলারের মালিক এমাদুল সিকদার মুঠোফোনে জানান, গত শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ১১ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে তিনি সাগরে মাছ ধরতে যান। পায়রা বন্দর এলাকা থেকে ৫-৬ ঘণ্টা চলার পর গভীর সাগরে জাল ফেলেন তাঁরা। রোববার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ ভারী দমকা বাতাসে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় ইঞ্জিন ও থাকার কক্ষে থাকা তিনজন বের হওয়ার সুযোগ পাননি। বাইরে থাকা ৮ জনের মধ্যে তিনজন ট্রলারের ভাঙা অংশ ধরে সাঁতরাতে থাকেন, বাকি ৫ জন ফিশিং বয়া ধরে ভেসে থাকেন। প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর, ভোররাত ৪টার দিকে পাশের একটি ট্রলারের আলো দেখে চিৎকার করলে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমাদুল বলেন, ১৫-১৭ লাখ টাকার ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি তাঁর ৬ সহকর্মী এখনো নিখোঁজ, আর এত বড় ক্ষতি সামলানোর সামর্থ্য তাঁর পরিবারের নেই।
গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, উদ্ধার জেলে এমাদুল সিকদারের বাবা ইদ্রিস সিকদার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন, যেখানে ৬ জন নিখোঁজ ও ৫ জন জীবিত উদ্ধারের কথা উল্লেখ আছে।
ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক জানান, উদ্ধার পাঁচ জেলে ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৭৫০০ টাকা ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ ৬ জেলের সন্ধানে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।