সোমবার
১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে যুবদল নেতাকে গুলির অভিযোগ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১০ এএম
গুলিবিদ্ধ মো. সোহাগ ওরফে সোহেল
expand
গুলিবিদ্ধ মো. সোহাগ ওরফে সোহেল

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বাড়িতে ঢুকে যুবদলের সাবেক এক নেতাকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় যুবদল নেতা মো. সোহাগ ওরফে সোহেল (৩৫) আহত হয়েছেন।

রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ সোহেল গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। তিনি ওই গ্রামের চৌকিদার বাড়ির মাহফুজ মিয়ার ছেলে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার বছর পর গত ২০ জুলাই সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন সোহেল। গত বুধবার দুপুরে পাশের আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের জনকল্যাণ এলাকায় রসুলপুর গ্রামের যুবদল কর্মী সুমনকে পথরোধ করে মারধর করেন জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় সোহেলের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে রোববার সন্ধ্যায় জামায়াত ও শিবিরের নেতা আলম, নাছির, জহির ও চশমা জাবেদের নেতৃত্বে সোহেলকে বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবীবুর রহমান হাবীব অভিযোগ করেন, গোপালপুর ইউনিয়নে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা যুবদল নেতা সোহেলকে গুলি করে পালিয়ে যান।

নোয়াখালী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান অভিযোগ করেন, দলের এক কর্মীর সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কর্মীর কথা-কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় যুবদল নেতা সোহাগ প্রতিবাদ করেন। ওই ঘটনার জের ধরে শিবিরের একদল সশস্ত্র ক্যাডার সোহাগের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বেগমগঞ্জের গোপালপুর বাংলাবাজার আমানুল্লাহপুর আলাইয়াপুর ছয়ানীতে শিবির ক্যাডাররা প্রতিনিয়ত সশস্ত্র মহড়া দিচ্ছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট দাবি জানান, অতি দ্রুত সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সব অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

এ ঘটনায় গোপালপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাস্টার আবু তাহের জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াত ও শিবিরের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন।

উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ বলেন, গত ৬ আগস্ট সন্ত্রাসীরা আমাদের অফিসে হামলা ও গুলি করে এবং ৮ আগস্ট আলমগীর চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা ও গুলি করে। আজ তৃতীয় দফায় জামায়াতের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সোহেলের কোমরে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে তিনি নিজেই গুলিবিদ্ধ হোন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার পূর্বক উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

ছাত্র শিবির নোয়াখালী জেলা উত্তর শাখার সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপি ও যুবদলের নেতারা প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করার জন্য ছাত্র শিবিরের দিকে অভিযোগ তুলছে এবং দায় চাপাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

বেগমগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান হাবীব বলেন, এলজির ছররা গুলিতে একজন আহত হয়েছেন। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকের ভাষ্যমতে, আঘাত তেমন গুরুতর নয়। রা

জনৈতিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন