

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদকসহ ৭টি পদেই নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের বিজয় হয়েছে। বাকি ৪টি পদের মধ্যে সভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও একজন কার্যকরী সদস্য মিলে মোট ৩টি পদে বিএনপি এবং ১টি কার্যকরী সদস্য পদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
৭৯ জন ভোটারের অধিকাংশ আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ায় এরকম ফলাফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত কোন প্রার্থী ছিল না। সবশেষ ২০১২ সালে এই সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পরবর্তী সময়গুলোতে স্থানীয় এমপির ডিও লেটারে কমটি গঠন হবার কারণে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সভাপতি পদে জি এম ওমর ফারুক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ স্বপন পাটওয়ারী বিজয়ী হয়েছেন।
আজ শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া চলে। দলিল লেখক সমিতির আহবায়ক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মতিন ভোট গণনা শেষে বিকেলে এই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে ১১টি পদের বিপরীতে মোট ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সমিতির মোট ৭৯ জন ভোটারের সবাই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে জি এম ওমর ফারুক ৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সফিউল বাশার শেখ পেয়েছেন ৩৪ ভোট। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মাহবুবুল আবরার ৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন স্বপন ২১ ভোট এবং আবু জাফর ৮ ভোট পান। সহ-সভাপতি পদে মোঃ আবুল কালাম ৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শিব্বির আহমদ পেয়েছেন ৩৬ ভোট।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক পদের ৭ জনের লড়াইয়ে মোঃ স্বপন পাটওয়ারী ২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই পদে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আলমগীর হোসেন ১৬ ভোট, মনির হোসেন মাহী ১৪ ভোট, আনিছ আহম্মদ ১২ ভোট, সালেহ আহম্মদ ৭ ভোট, মাকছুদুর রহমান ৫ ভোট এবং মোঃ ইলিয়াছ কাঞ্চন ৩ ভোট পেয়েছেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ আবদুর রহিম ৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রিয়াজ উদ্দিন পেয়েছেন ৩১ ভোট এবং মোঃ জিয়াউর রহমান পেয়েছেন ৯ ভোট।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মিজানুর রহমান ৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী মোঃ জাবেদ আলম পেয়েছেন ৩৬ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে ইমাম হোসেন মুরাদ ৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যেখানে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে মোঃ ইউনুছ ২৬ ভোট এবং নাজমুল আলম কামাল ১৭ ভোট পেয়েছেন। দপ্তর সম্পাদক পদে আনিছুর রহমান সজীব ৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী মোঃ নুর হোসেন পেয়েছেন ৩৩ ভোট।
কার্যকরী সদস্য পদে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে প্রথম তিনজন নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন যথাক্রমে— নুরেরজ্জামান (৫৪ ভোট), রহমত উল্যাহ (৪২ ভোট) এবং আবদুল মন্নান কাওয়াল (৪০ ভোট)। এই পদের অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজুল ইসলাম ৩৯ ভোট এবং শ্রী কল্যান চক্রবর্তী ২৯ ভোট পেয়েছেন।
দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন হওয়ায় সাব-রেজিস্ট্রার অফিস প্রাঙ্গণে প্রার্থী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা সবাইকে নিয়ে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি সমিতির উন্নয়ন, দলিল লেখকদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও সাধারণ সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।