

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নোয়াখালী জেলায় দুই হাজারেরও বেশি হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে নিবন্ধিত ভোটার মাত্র ১৪ জন।
আসনভিত্তিক চিত্র বললে, নোয়াখালী-৩ এ সর্বোচ্চ সংখ্যক ৮ জন, নোয়াখালী-৪এ ৩ জন, নোয়াখালী-৬ এ ২ জন, নোয়াখালী-১ ও ২: প্রত্যেকে ১ জনকরে এবং নোয়াখালী-৫ এ শূন্য৷
সবচেয়ে উদ্বেগজনক— কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সেনবাগ উপজেলায় একজন হিজড়াও ভোটার তালিকায় নেই, যদিও এখানে শতাধিকেরও বেশি হিজড়া বাস করেন।
কেন এই ব্যবধান? জানতে চাইলে, কোম্পানীগঞ্জের লাকী হিজড়া বলেন: — “চাইলেও মূলধারায় আসতে পারছি না, কাগজপত্র নেই।” এছাড়াও কাগজপত্রের অভাব (জন্ম নিবন্ধন, অভিভাবকের ডকুমেন্ট), সচেতনতার ঘাটতি এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক বৈষম্য। অনেকেই তৃতীয় লিঙ্গের আলাদা ক্যাটাগরি সম্পর্কে জানেনই না বলে জানান অনেকে৷
এ বিষয়ে হিজড়া গুরু মা আলো হিজড়া যোগ করে বলেন— “আমাদের ভোট না দেওয়া মানে আরও পিছিয়ে দেওয়া। সহজ প্রক্রিয়া দরকার।” ভোটাধিকার শুধু ভোট নয়— এটি সম্মান, স্বীকৃতি ও সমান অধিকারের প্রতীক।
নোয়াখালীর এই হাজারো মানুষের জন্য সময় এসেছে সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তির। সেক্ষেত্রে হিজড়া সম্প্রদায়ের কেউ যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা বৈষম্যের শিকার না হন, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে, ভোটকেন্দ্রে তাদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে এমনটি দাবি হিজড়াদের৷
নোয়াখালীর সিনিয়র জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম বলেন— কেউ এলে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। ইতোমধ্যে বেগমগঞ্জে সচেতনতা উঠান বৈঠক হয়েছে, এবং আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে হিজড়া সম্প্রদায়কে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ চলছে।
মন্তব্য করুন
