

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক অমতে মেয়েকে বিয়ে করায় জামাতাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করে মারধর এবং পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ উঠেছে কুতুবপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান ওরফে মনার বিরুদ্ধে।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে মনা দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবকই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
গ্রেপ্তাররা হলেন শাহরিয়ার সোহান শিমুল (২১) ও তার বড় ভাই মো. শফিকুল ইসলাম শুভ (২৮)। পুলিশ তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের দাবি, শুভ অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও শিমুলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য নেই। পারিবারিক বিরোধের জেরেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
শিমুলের স্ত্রী মুশফিকা হাসান নৈতী বলেন, প্রায় চার মাস আগে পরিবারের অমত সত্ত্বেও তারা ভালোবেসে বিয়ে করেন। এরপর থেকেই তার পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি।
তার অভিযোগ, গত শনিবার রাস্তায় একা পেয়ে তার বাবা কামরুল হাসান মনা শিমুলকে চোর আখ্যা দিয়ে মারধর করেন। পরে পুলিশকে দিয়ে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় করিয়ে একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করান।
নৈতী বলেন, আমি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছি। আমাকে কেউ জোর করেনি। কিন্তু আমার পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি। আমাকে বাড়িতে নিয়ে নির্যাতনও করা হয়েছে। এখন আমার স্বামী ও তার ভাইকে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে। বাবার হুমকির কল রেকর্ডও আমার কাছে আছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামরুল হাসান মনা। তিনি বলেন, শিমুল ও তার ভাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এলাকাবাসী তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। এখানে আমার কোনো ভূমিকা নেই। আর শিমুল আমার মেয়ের স্বামী নয়। আমার মেয়ের এখনো বিয়ে হয়নি।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, কে কী অভিযোগ করল, তা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, তারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আদালতে পাঠানোর সময়ও তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছেন। তদন্ত শেষে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।
এর আগে গত ২৭ মে কামরুল হাসান মনা তার মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ এনে শাহরিয়ার সোহান শিমুল, মো. শফিকুল ইসলাম শুভসহ চারজনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।
তবে শিমুলের পরিবারের দাবি, অপহরণের অভিযোগটি ভিত্তিহীন। তাদের ভাষ্য, প্রাপ্তবয়স্ক দুইজনের পারস্পরিক সম্মতিতে হওয়া বিয়েকে কেন্দ্র করেই ধারাবাহিকভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।