

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফায়ার সার্ভিসের সেরা ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়া মো. সাদিকের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক সালেহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন।
তিনি বলেন, সাদিকের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে মরদেহ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার গোয়ালন্দ বাজার এলাকার কুমরাকান্দি গ্রামে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জানাজা শেষে সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
গত বছর ফায়ার সার্ভিসের সেরা ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয় পদক পেয়েছিলেন মো. সাদিক। গত মাসেও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি লেকে ডুবে যাওয়া তিনজনের মরদেহ উদ্ধারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। সেই সেরা ডুবুরিই এবার প্রাণ হারালেন পানিতে ডুবে।
রাজবাড়ীর বাসিন্দা সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীতে নিখোঁজ হন তিনি। প্রায় আট ঘণ্টা পর সহকর্মীরা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।
জেলা ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, শীতলক্ষ্যা নদী ফায়ার স্টেশনের জেটির সামনে প্রায়ই কচুরিপানা জমে থাকে। বৃহস্পতিবার সকালে সাদিকসহ তিনজন ডুবুরি স্পিডবোট নিয়ে সেগুলো পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। এ সময় স্পিডবোটের সামনের দিকে থাকা সাদিক ঢেউয়ের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যান।
সেরা ডুবুরি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া একজন সদস্য কীভাবে নদীতে ডুবে গেলেন এ প্রশ্নের জবাবে উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘এটি নিছক একটি দুর্ঘটনাই মনে হচ্ছে। তিনটি স্পিডবোট পাশাপাশি ছিল। কচুরিপানা পরিষ্কার করার জন্য সাদিক নদীতে নামলে হয়তো স্পিডবোট এবং পাশে থাকা পল্টুনের নিচে দিগ্বিদিক হারিয়ে ফেলেছিলেন। আমরা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ গজ দূরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করি। স্রোতের কারণে মরদেহ ভেসে গিয়েছিল। তাঁর শরীর কোথাও আটকে ছিল না।’
ঘটনার সময় সাদিকের সঙ্গে থাকা অপর দুই ডুবুরির ধারণা, নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন। তাঁদের বরাত দিয়ে এ তথ্যও জানান আব্দুল্লাহ আল আরেফিন।