

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পরিবেশবিদদের অভিযোগ, উন্নয়ন ও সড়ক প্রশস্তকরণের অজুহাতে নির্বিচারে গাছ কাটায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে। তাদের মতে, গাছ না কেটেও সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব ছিল; এতে পরিবেশ রক্ষা পেত।
স্থানীয়রা জানান, প্রত্যন্ত এই গ্রামের সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধ ঔষধি অর্জুন গাছের এমন দৃশ্য আর কোথাও দেখা যায় না। গাছগুলোর বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে ছায়া দিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এসব গাছের ছাল, বাকল ও পাতা সংগ্রহ করতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসতেন। সেই গাছ কাটায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের প্রায় ২০০ মিটার এলাকায় ৮–১০ জন শ্রমিক গাছ কাটার কাজে ব্যস্ত। কেউ ডাল কাটছেন, কেউ গোড়া কাটছেন। সড়কের দুই পাশে কাটা গাছের গুঁড়ি স্তূপ হয়ে পড়ে আছে, যা ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক গাছ।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ হাসান বলেন, ‘সড়ক ঠিক করার কথা বলে এত পুরোনো ওষুধি গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে—এটা দুঃখজনক। এসব গাছ এখন বিরল। প্রতিদিনই মানুষ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় এই গাছের ছাল-বাকল নিয়ে যেত। কর্তৃপক্ষের আরও ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।’
রায়হান ইসলাম বলেন, ‘এত গাছ কাটার দৃশ্য সত্যিই অবাক করেছে। গাছগুলোর কারণে সড়কের দুই পাশে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হয়েছিল। এসব গাছ ৫০ বছরেও আর হবে না। একটি দিক রেখে অন্য দিক সম্প্রসারণ করলেও হতো। সড়ক সংস্কারের নামে গাছ কাটার পেছনে অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পদকপ্রাপ্ত ইউসুফছার রহমান হেবজুল বলেন, ‘আমরা উন্নয়ন চাই, তবে আত্মঘাতী উন্নয়ন নয়। এভাবে গাছ কাটায় পরিবেশ ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে। একজন পরিবেশ কর্মী হিসেবে আমরা প্রতিবাদ ছাড়া কোনো প্রতিকার করতে পারছি না—এটাই দুঃখজনক।’
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সৈকত দাশ বলেন, ‘গাছ রেখে সড়ক প্রশস্ত করলে ঝুঁকি ছিল। তাই গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ), নওগাঁ রিজিয়ন–২–এর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘টেন্ডারের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। সড়কের কাজ শেষ হলে নতুন করে গাছ লাগানো হবে।’ তবে কতটি গাছ টেন্ডারে বিক্রি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তা মনে নেই।
মন্তব্য করুন
