

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ১০ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় বিএসএফ। তাদের মধ্যে দুইজন পুরুষ, সাত জন নারী ও এক শিশু রয়েছে।
তবে বিজিবি বলছে, বৃহস্পতিবার (২জুলাই) সকালে পুশইন করলেও রাতে অন্য সীমান্ত দিয়ে তাদেরকে ভারতের অভ্যন্তরে পুশব্যাক করা হয়েছে।
এদিকে পুশইনের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলমকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।
সীমান্ত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ফজরের নামাযে যাওয়ার সময় নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে দেখতে পান ওই সীমান্ত ঘেষা কচুরগুল গ্রামের আব্দুল হালিম। বিষয়টি তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানান। পরে বিজিবি খবর পেয়ে সেখানে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুশইন শিকার ব্যাক্তিদের বাংলাদেশে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া যায়। দিনভর আব্দুল হালিমের বাড়িতে তাদেরকে আটকে রাখার পর রাতে সিএনজিতে তুলে বিজিবি তাদেরকে নিয়ে বের হয়। শিলুয়া এলাকায় স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে বিজিবি সদস্যরা সেখান থেকে চলে যান। পরে তারা আবার ফিরে এসে অন্য সীমান্ত দিয়ে পুশব্যাক করা হবে বলে বড়লেখার দিকে নিয়ে যান।
পুশইনের শিকার নারী-পুরুষরা জানান, তাদের বাড়ী বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলায়। তারা বিভিন্ন সময় যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। পরে তারা ভারতের গুজরাটসহ বিভিন্ন শহরে ছিল। সেখানে পুলিশের হাতে আটক হয়ে তাদেরকে বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করা হয়। বিএসএফ তাদেরকে বাংলাদেশের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করায়।
তারা আরো বলেন, সকালে আইডি আনতে বললে আমরা আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে এনে সব আইডি দিয়েছি। তারা (বিজিবি) রাতে আমাদেরকে বাসে তুলে দিবে বলে নিয়ে বের হয়েছে। কিন্তু কোথায় নিয়ে যাচ্ছে জানি না। আমরা ভয়ের মধ্যে আছি।
বিএসএফের পুশইন করা ১০ জন হলেন, রিহাদুল মোল্লা (৫৫), ফরিদা বেগম (৪০), লাবিবা আক্তার (০৮), সুবা আক্তার (৩২), দিলারা বেগম (৩৮), রিতা বেগম (৪০), রিয়া বেগম (২৫), সাব্বির শেখ (১৯), লাইলি খাতুন (২৮)। তাদের বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলায়। এছাড়া সালমা খাতুনের (২৭) বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায় বলে জানা যায়।
স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম বলেন, পুশইনের তথ্যটি জানার পর আমি ৫২ বিজিবির সিইও এর সাথে কথা বলি। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়েও জানতে পারি পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেই। সেটি আমাকে ডিলেট করতে বলেন সিইও। তারপর বিজিবি সদস্যরা আমার বাড়িতে এসে আমাকে না পেয়ে ছোট ভাই তৌহিদ আলমকে লাঠিটিলা ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, আমার মোটরসাইকেলে ব্যারিকেড দিয়ে আটক করার চেষ্টা হলে আমি সেখান থেকে সরে যাই। কিন্তু তাদের লাঠির আঘাতে মোটরসাইকেলের পার্কিং লাইট ভেঙে যায়। পরে সাব্বির হোসেন নামের এলাকার ছোট ভাই আমার মোটরসাইকেল নিয়ে লাঠিটিলা গেলে সাইকেলসহ তাকে আটক করে। পরে ভোরে তাদেরকে ছেড়ে দিলেও মোটরসাইকেল তাদের কাছে এখনও রয়েছে।
৫২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল আতাউর রহমান এনপিবি-কে জানান বলেন, এই সীমান্তে আমাদের সাফল্য বেশি। কেউ একে অস্থিতিশীল করতে তৎপর কি না তা আমরা আমাদের প্রক্রিয়ায় দেখবো। খুর্শেদ আলম নামক সাংবাদিক উনি আসলেই সাংবাদিক নাকি গুপ্তচর তা খতিয়ে দেখা হবে কারণ উনি অপতথ্য ছড়িয়েছেন।
তিনি বলেন, বিএসএফ ১০ জনকে পুশইন করেছে কিন্তু তারা বাংলাদেশে ঢুকতে পারেনাই। আমরা তাদেরকে সীমান্তে আটক করে অন্য সীমান্ত দিয়ে পুশব্যাক করেছি।
