

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নামসর্বস্ব ও নিম্নমানের একাধিক বেসরকারি ক্লিনিক। এসব ক্লিনিকের পক্ষে নিয়োজিত দালালদের দৌরাত্ম্যে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেনেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে নিরব ভূমিকা পালন করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে দালালদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন এনপিবি ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিক দীপক সূত্রধর।
জানা যায়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এনপিবি ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিক দীপক সূত্রধর ইসিজি করাতে হাসপাতালের ১৯৭ নম্বর কক্ষে গেলে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিকের হাতে থাকা কাগজ নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সাংবাদিক তার গোপন ক্যামেরা চালু করে তাদের পরিচয় জানতে চান। এ সময় তারা নিজেদের পরিচয় দেয় ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধি শাহিন এবং ল্যাব জোন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধি রূপক।
ভিডিওতে তারা স্বীকার করে, হাসপাতালের যেসব পরীক্ষা হয় না এবং দ্রুত রিপোর্ট পাওয়ার লোভ দেখিয়ে তারা রোগীদের নিজ নিজ ক্লিনিকে নিয়ে যায়। অনেক রোগী ক্লিনিকগুলো চেনেন না বলেই তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রোগী সংগ্রহের। তারা আরও জানায়, প্রতিদিনই প্রায় সব ক্লিনিকের প্রতিনিধিরা অবাধে সরকারি এই হাসপাতালে ঘোরাফেরা করে এবং এ বিষয়ে কোনো বাধা বা নিয়ম-কানুন কার্যকর নেই।
পরবর্তীতে গোপন ভিডিও ধারণের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে দালাল চক্রের সদস্যরা একত্রিত হয়ে সাংবাদিককে নানা প্রশ্নের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে এবং জোরপূর্বক হাসপাতাল এলাকা থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ভিডিওটি ডিলিট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। তারা দাবি করে, তাদের অন্তত ৪০ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে এবং প্রয়োজনে সবাইকে একত্রিত করার হুমকিও দেয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাদের পরিচিত এক সাংবাদিক মুঠো ফোনে কথা বললে এবং দ্বায়িত্বরত আনসার সদস্য এগিয়ে আসলে বিষয়টি স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাঝে মধ্যেই অভিযান চালিয়ে দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে দালালদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে লোকচক্ষুর আড়ালে কিছু দালাল ঢুকে পড়তে পারে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধুমাত্র অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় দালাল চক্র বন্ধ হচ্ছে না। হাসপাতাল প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত মনিটরিং না থাকলে সাধারণ রোগীরা এভাবেই প্রতারণার শিকার হতে থাকবে।
মন্তব্য করুন