

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনার নানা গল্প শোনা যায়। কেউ প্রিয় দলের জার্সি সংগ্রহ করেন, কেউ বাড়ির ছাদে পতাকা ওড়ান। তবে মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেন নিজের প্রিয় দল জার্মানির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে বেছে নিয়েছেন ব্যতিক্রমী পথ। পতাকা তৈরির খরচ জোগাতে তিনি বিক্রি করেছেন নিজের ১০ শতক জমি।
বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টার দিকে মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাইস্কুল মাঠে আমজাদ হোসেনের তৈরি বিশাল জার্মান পতাকা প্রদর্শন করা হয়। এ উপলক্ষে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন পেশায় একজন কৃষক। ১৯৮৭ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েও সুস্থতা পাননি। পরে জার্মানির তৈরি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবনের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার পর থেকেই দেশটির প্রতি তার বিশেষ অনুরাগ তৈরি হয়।
সেই অনুরাগ থেকেই তিনি জার্মান জাতীয় ফুটবল দলের সমর্থক হয়ে ওঠেন। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজ অর্থায়নে তৈরি করেছেন কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মান পতাকা, যার পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা।
এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পতাকা তৈরি করেছিলেন। সে সময় পতাকা তৈরির অর্থ সংগ্রহ করতে জমি বিক্রি করতে হয়েছিল তাকে। ওই পতাকা তৈরিতে স্থানীয় কয়েকজন দর্জি কাজ করেন এবং তাদের মজুরি বাবদও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়।
এবারও নতুন করে আরও বড় আকারের পতাকা তৈরির উদ্যোগ নেন আমজাদ। পতাকা তৈরির খরচ মেটাতে তিনি ১০ শতক জমি বিক্রি করেন। এ কাজে কয়েকজন দর্জি অংশ নেন এবং পুরো প্রকল্পে ব্যয় হয় দুই লাখ টাকারও বেশি।
তবে প্রিয় দলের জন্য অর্থ ব্যয় করাকে তিনি কোনো বোঝা মনে করেন না। আমজাদ হোসেন জানান, জার্মানি যদি আবারও বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে আরও বড় পরিসরে উদ্যাপনের আয়োজন করবেন তিনি। তার কাছে জার্মানি শুধু একটি ফুটবল দল নয়, বরং আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক।
অনুষ্ঠানে আমজাদ জানান, এই পতাকা অভিযান চলবেই। এ বছর বিশ্বকাপে জার্মানি চ্যাম্পিয়ান হলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তিনগুণ অর্থাৎ ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা বানাবেন তিনি। যা মাগুরা ভায়না থেকে সীমাখালী পর্যন্ত পথজুড়ে প্রদর্শিত হবে।
আমজাদ মনে করেন, তার পতাকার তৈরির বিষয়টি বিশ্বে বাংলাদেশকে নতুন এক পরিচয়ে পরিচিত করছে। তা হচ্ছে এদেশের মানুষের ফুটবলপ্রেম।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে জার্মানি ফুটবলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত নিজে মাগুরার ঘোড়ামারা গ্রামে কৃষক আমজাদের বাড়িতে ছুটে এসেছিলেন। ১২ জুলাই ২০১৪ সালে জার্মান চার্জ দ্য আফেয়ার্স ড. ফার্দিনান্দ ফন ফার্সি ওয়েহে তাকে মাগুরা স্টেডিয়ামে জার্মানের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও লিখিতভাবে জার্মান ফ্যান ক্লাবের সদস্য পদ দেন। পরবর্তীতে জার্মান দলের জয়ে আমজাদ হোসেন গণভোজের আয়োজন করেন। যা বাংলাদেশ, জার্মান ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়।
