

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে জুন মাসে পল্লী বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহার স্বাভাবিক থাকলেও জুন মাসে তাদের অনেকের বিল দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। কোথাও মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের ইউনিটের মিল নেই, আবার কোথাও দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ ব্যবহার না হলেও এসেছে মোটা অঙ্কের বিল। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র সমালোচনা। দ্রুত তদন্ত করে অতিরিক্ত বিল সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
কমলনগর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ৬১ হাজার গ্রাহক রয়েছে। চলতি মাসে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ পাওয়ায় প্রতিদিনই অভিযোগ নিয়ে অফিসে ভিড় করছেন ভুক্তভোগীরা।
মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়েই যেন মাথায় হাত কমলনগরের হাজারো গ্রাহকের। আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ বিল দেখে কেউ ছুটছেন বিদ্যুৎ অফিসে, কেউ ক্ষোভ ঝাড়ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
চর মার্টিন ইউনিয়নের গ্রাহক কোরবান আলী বলেন, তার মিটারের রিডিং ১১০০ ইউনিট হলেও বিলে ১১৩০ ইউনিট দেখানো হয়েছে। চর ফলকন ইউনিয়নের আবু তাহের জানান, গত তিন মাস তার আবাসিক সংযোগে কোনো বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়নি। অথচ জুন মাসে ১ হাজার ৮০০ টাকার বিল এসেছে।
এছাড়া আলাউদ্দিনের বিল ৬৭৭ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৩৭৭ টাকা, আদনান শরীফের ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৭ হাজার ১৯০ টাকা, বেলাল হোসেনের ৩০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, মোস্তাফিজুর রহমানের ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, আওলাদ হোসেনের ৪৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, নাহিদের ৫১১ টাকা থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং রাছেল হোসেনের ৪২৫ টাকা থেকে ৯২৬ টাকায় পৌঁছেছে। একই ধরনের অভিযোগ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আরও অসংখ্য গ্রাহকের।
গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়মিত লোডশেডিংয়ের মধ্যেও অতিরিক্ত বিল করা হচ্ছে। অভিযোগ জানাতে অফিসে গেলেও কার্যকর সমাধান মিলছে না। এতে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এ বিষয়ে কমলনগর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিটার রিডিংয়ের ভুল বা সমন্বয়ের কারণে বিল বেশি আসতে পারে। অভিযোগ পেলে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।”
তবে গ্রাহকদের প্রশ্ন, যদি এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ভুল হয়, তাহলে একই সময়ে উপজেলার এত বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেল কীভাবে? তাদের দাবি, পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভুল বিল দ্রুত সংশোধন করা হোক।