

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ অফিসে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরে ঐ কক্ষেই অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে ক্যাম্পের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় উভয়কে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বলেন,"অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই শিক্ষিকার মৃত্যু হয়। এ ঘটনা আরও একজন আহত রয়েছেন তার চিকিৎসা চলছে।"
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের হোসেন বলেন, "আজকে ক্যাম্পাসে ইফতার ছিল, আমি খাবার নিয়ে এসে শুনি ম্যাডামকে খুন করা হয়েছে। আমার বন্ধুদের কাছে শুনতে চাইলে তারা বলে। ম্যাডামের রুমের সমানে দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ শব্দ হচ্ছিল বাঁচাও বাচাঁও বলে। সাতজন মিলে দরজা ভেঙে দেখে ম্যাডাম ফ্লোরে পড়ে আছে। আর ফজলুর ছুরি দিয়ে নিজের গলা কাটছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, এ ঘটনার পর পরই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যে রুমি ঘটনা সেটা পুলিশ সিলগালা করে দিয়েছে। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্রাইম সিন ডেকেছেন। একই ডিপার্টমেন্টের কর্মচারী ফজলু আসমা সাদিয়া রুনাকে হত্যা করেছে। তিনি (রুনা) অবস্থান করছিলেন। চিৎকার শুনে কর্তব্যরত আনসাররা দরজা ভেঙে ভিতরে ডুকে দেখেন ম্যাডাম পড়ে আছে। এবং যে ম্যাডামকে আঘাত করেছে সে নিজের গলায় নিজে ছুরি চালিয়েছে। এ ঘটনায় যে ধরনের আইনি সহায়তা লাগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার ব্যবস্থা নিবে।
শিক্ষিকার (রুনা) সাথে ফজলুরের কোন মতো বিরোধ ছিল কি না এমন প্রশ্নে ভিসি আরও বলেন, এই ধরনের ইনফরমেশন আমার কাছে নেই।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন,"আজ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে নিজ অফিস রুমে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা শুনে ইবি থানার ওসি ঘটনাস্থলে যায়। দুইজনকে জখমরত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপককে (রুনা) মৃত ঘোষণা করে। আরেকজন (ফজলুর) চিকিৎসাধীন রয়েছে। সিসি ক্যামেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।"
মন্তব্য করুন