

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে চর কড়াইবরিশাল, বিশারপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শাখাহাতি এলাকায় অন্তত ৭০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। গত পাঁচ দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে তিনশত মিটার হেরিং রাস্তা, বিদ্যুতের খুঁটি, গাছপালা ও কয়েক হেক্টর ফসলি জমি। বর্তমানে আরও দুই শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙন কবলিত পরিবারের কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে, কেউ পাশের চরে, আবার কেউ উঁচু জায়গায় অস্থায়ীভাবে বসতি গড়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন। তবে তাদের বেশিরভাগেরই স্থায়ী আশ্রয়ের কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবার কেউ পরিবার পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
কড়াইবরিশাল এলাকার দিনমজুর ধলু মিয়ার স্ত্রী লাভলী বেগম বলেন, গত শনিবার হঠাৎ ভাঙন শুরু হইছে। ঘর সরানোর সময়ও পাইনি। আত্মীয়রা দূর থেইকা ভাত পাঠাইছে, সেই ভাত খাইয়া ঘর সরাইতেছি। থাকার জায়গা নাই, রান্না করার উপায় নাই। এখন এই ভাঙা ঘর কই নিয়া যামু, "সেই ঠিকানাও নাই আমাগো"।
শাখাহাতি এলাকার ফারুক মিয়া বলেন, পাশের এক চরে এক বিঘা জমি তিন লাখ টাকায় চুক্তি করছি। যতদিন নদী না ভাঙে ততদিন থাকতে পারব। নদী ভাঙলে টাকাও আর ফেরত পাওয়া যাবে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রহ্মপুত্রে ভয়াবহ ভাঙন চললেও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ।
এদিকে শুধু বসতবাড়িই নয়, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে চর কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ নম্বর চিলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর শাখাহাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল বাজার, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, মসজিদ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত ৭০ থেকে ৮০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। আরও ২০০ থেকে ৩০০টি পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, জেলায় প্রায় ৪০টি স্থানে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। চরাঞ্চলের জন্য আলাদা বরাদ্দ না থাকলেও দেড় হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো ফেলা হচ্ছে।
তবে সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রায় ৭০টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। তাদের শুকনো খাবার ও জিআরের চাল দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে নিরাপদ স্থানে ঘর সরিয়ে নিতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঝুঁকিতে থাকা দুই শতাধিক পরিবারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

