

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলের প্রায় আট মাসের ভাড়া পরিশোধ না করা এবং হোটেলে অবস্থানকালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি করেছে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযুক্ত নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বা এ বিষয়ে জানেন না বলে দাবি করেছেন।
হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপ ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হোটেলের ৭২৫ ও ৭২৭ নম্বর কক্ষ ব্যবহার করেন। প্রতিটি কক্ষের দৈনিক ভাড়া ছিল ৩ হাজার টাকা। সে হিসাবে দুই কক্ষের মোট বকেয়া ভাড়া দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা।
হোটেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বুকিংয়ের সময় ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হলেও পরে আর কোনো ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। পাওনা টাকা চাইলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনালের হিসাব বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ কাজল বলেন, এনসিপির নেতারা হোটেলে দুইটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে আট মাস ছিলেন। হোটেল বুকিংয়ের সময় ১০ হাজার টাকা দিলেও পরে আর কোনো ভাড়া দেননি। হোটেলে যারা ছিলেন তাদের কারও বাসা শনিরআখড়া, জুরাইন আবার কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এখানে হোটেলে আসত, আড্ডা দিত রাতভর। তাদের সঙ্গেও লোকজন আসত। প্রায়ই তারা ‘নারীদের’ নিয়ে আসত। তাদের সঙ্গে যারা আসত তারাও ‘নারীদের’ নিয়ে আসত। আমরা বলেছি যে, নারী এলাওড না। তারা তখন বলেছে—আপনাদের কাজ আপনারা করেন, আমাদের কাজ আমাদের করতে দেন।
হোটেলের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার রুহুল আমিনের সই করা অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ওই কক্ষগুলোতে অবস্থানকালে একাধিক ব্যক্তি নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। এ-সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি জানিয়ে তারা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দলীয়ভাবে সহযোগিতা না পেলে তারা আইনগত পদক্ষেপ নেবেন।
হোটেলের হিসাব বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ কাজল বলেন, একাধিকবার ভাড়া পরিশোধের অনুরোধ জানানো হলেও বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি। পরে কক্ষ দুটি খুলে নতুন করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নেতারা।
ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার বলেন, হোটেল ভাড়ার বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই। নারী নিয়ে হোটেলে অবস্থানের অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন এবং বিষয়টি যাচাই করার আহ্বান জানান।
সাদেক মির্জা বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় তিনি কয়েকবার ওই হোটেলে গিয়েছিলেন। তবে কক্ষ ভাড়া বা আর্থিক বিষয় সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
শাখাওয়াত হোসেন বলেন, কক্ষটি তার নামে বুক করা হয়নি। তিনি সেখানে গিয়েছিলেন, কিন্তু ভাড়ার বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না।
মিরাসাত হোসেন হিমেলও অভিযোগের বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি করেন।
এসব অভিযোগের বিষেয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই বিষয়ে অভিযোগ যেহেতু আসছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা কমিটি আছে তারা বিষয়টি দেখতেছেন। শৃঙ্খলা কমিটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরে সেই অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সূত্র : কালবেলা
