

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নড়াইলে মাসের পর মাস অফিস না করেও প্রতিমাসে নিয়মিত বেতনসহ অফিসের আনুষঙ্গিক সুবিধা ভোগ করছেন কালিয়া উপজেলার বিআরডিবির মহিলা কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার।
বিআরডিবি অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ওই কর্মকর্তার দাপটে অস্থির থাকেন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তার প্রভাব নাকি বিআরডিবির প্রধান কার্যালয় পর্যন্ত। রোজিনা আক্তার কালিয়া উপজেলা বিআরডিবি অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার পদে কর্মরত। তিনি অফিস না করেই বেতনের সঙ্গে সব সুবিধাই নিচ্ছেন।
গত রবিবার (২৮ জুন) বেলা ১১ টার দিকে সরেজমিন, কালিয়া উপজেলা পল্লী উন্নয়ন (বিআরডিবি) অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এসময় হাজিরা খাতায় দেখা যায়, ২৮ জুন বাদে নিয়মিত হাজিরা খাতায় সই করা আছে তার। তবে তিনি (রোজিনা আক্তার) গত ৭ জুন আনুমানিক বেলা ১২ টার দিকে সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিবাদে জড়ান তুলারামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মো. মাজহারুল ইসলামের সাথে।
এ ঘটনায় নায়েব মো. মাজহারুল ইসলাম গত ১১ জুন নড়াইল সদর থানায় রোজিনা আক্তারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।
একই ব্যাক্তি একই সময় একই দিনে দুই জায়গায় কিভাবে অবস্থান করে এ নিয়ে অনুসন্ধানে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।অনুসন্ধানে জানা যায়, রোজিনা আক্তার সপ্তাহে একদিন অফিসে এসে হাজিরা খাতায় সারা সপ্তাহের সই করে চলে যান। তিনি কখনওই অফিস করেন না। নাম বলতে অনিচ্ছুক ওই অফিসের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারিরা জানান, গত ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি কালিয়া উপজেলা বিআরডিবি অফিসে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি এভাবেই অফিস করেন। তারা আরও জানান তিনি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর দায়িত্বে আছেন। কিন্তু তিনি অফিসে আসেনও না কাজও করেননা। এজন্য কম্পিউটারটি বন্ধ থাকতে থাকতে কম্পিউটারটি নষ্ট হওয়ার পথে।
এ বিষয়ে রোজিনা আক্তার বলেন, আমি অফিস করিনা এটা পুরোপুরি সত্য নয়। তবে আমার মা অসুস্থ থাকায় তাকে দেখাশোনার জন্য কিছুটা গাফিলতি আছে।
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কালিয়া উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সুজন কুমার চন্দ্র বলেন, আমি কালিয়াতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করি এজন্য আমি সপ্তাহে ১ দিন কালিয়াতে অফিস করি। আমি যেদিন অফিস করি রোজিনা আক্তার সেদিন অফিসে থাকেন সপ্তাহের বাকী দিনগুলা তিনি অফিসে যান কিনা এটা আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে জেলা বিআরডিবি অফিসে যেয়ে বিআরডিবির উপপরিচালক মো. গোলাম রছুলকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে ফোন দিলেও তিনি ফোন কেটে দেন।