

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হয়েছে। একই আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বুধবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে এ আপিল (নং-১৭৪) দায়ের করেন।
আপিল আবেদনের পাশাপাশি নিজের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার জন্যও তিনি পৃথক একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল অভিযোগ করেন, আপিলের প্রস্তুতির জন্য তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের তালিকা চাইলেও নির্ধারিত সময়ে তাকে সেই তালিকা সরবরাহ করা হয়নি।
মনোনয়ন বাতিলের আপিলে তিনি উল্লেখ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা হলফনামার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই সৈয়দ এহসানুল হুদার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন। তার দাবি, হলফনামাটি সঠিকভাবে পরীক্ষা করলে এই মনোনয়ন বৈধ হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।
আপিলের নথিতে উল্লেখ করা হয়, সৈয়দ এহসানুল হুদার দাখিল করা হলফনামায় তার ছবি, স্বাক্ষর ও তারিখ নেই। এছাড়া ৩ নম্বর কলামের খ অনুচ্ছেদে ভুল তথ্য, গ অনুচ্ছেদে অসম্পূর্ণ তথ্য এবং ৭ নম্বর কলামের ক অনুচ্ছেদে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। ৮ নম্বর কলাম পূরণ করা হয়নি এবং ১০ নম্বর কলামের ক অনুচ্ছেদও ত্রুটিপূর্ণ রয়েছে। এমনকি হলফনামাটি প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিক দ্বারা যথাযথভাবে সত্যায়িতও নয় বলে আপিলে উল্লেখ করা হয়।
শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, আমার মনোনয়নপত্রে সামান্য তথ্যগত ভুলের কারণে সেটি বাতিল করা হয়েছে। অথচ এহসানুল হুদার মনোনয়নপত্রে অসংখ্য ভুল ও অসত্য তথ্য থাকার পরও সেটিকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। হলফনামায় স্বাক্ষর, ছবি ও তারিখ না থাকার পরও একজন প্রার্থীর মনোনয়ন কীভাবে বৈধ হয়—এটাই আমার প্রশ্ন।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাজিতপুর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৃথক দুটি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। সব তথ্য সঠিক থাকায় তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের আবেদনের পর ৭ জানুয়ারি রেকর্ড রুম থেকে তাকে দুই কপি বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সঠিক নিয়মেই করা হয়েছে এবং কেউ সংক্ষুব্ধ হলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে জেলা নির্বাচন অফিস থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে সরবরাহ করা কপিতে দেখা গেছে, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার হলফনামায় তার স্বাক্ষর নেই।
প্রসঙ্গত, গত ৩ ও ৪ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনে দাখিল করা ৬১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭ জনকে বৈধ এবং ২৪ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে প্রথমে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেলেও পরে তাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদাকে দলীয় মনোনয়ন দেয় বিএনপি।
মন্তব্য করুন
