

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় হাত-পা বাঁধা ও গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত যুবকের মরদেহের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। ঘটনার আট দিন পর পুলিশ নিশ্চিত করেছে, নিহত ব্যক্তির নাম আলী মোল্লা (৩৪)। তিনি নগরকান্দা উপজেলার মধ্য জগদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পিতা হালিম মোল্লা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে ফরিদপুর–বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দার ডাংগী ইউনিয়নের নারানখালি ব্রিজের নিচে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তখন লাশের হাত-পা বাঁধা ও গলা কাটা থাকায় ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হয়।
নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে শুরু থেকেই পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তবে দীর্ঘ সময়েও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায়, লাশ উদ্ধারের একদিন পর পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলামের নির্দেশনায় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে ফরিদপুরের আলীপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পরবর্তীতে দাফনের সাত দিন এবং লাশ উদ্ধারের আট দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন সূত্র ও নিহতের স্বজনদের সহায়তায় অবশেষে মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আলী মোল্লা প্রায় দুই বছর ধরে এলাকায় বসবাস করতেন না। তিনি একাধিক বিয়ে করেছিলেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী সোনিয়া আক্তার ও দুই সন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলী মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে ভরণপোষণ দিতেন না। তিনি বাইরে লোক পাঠানোর কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, স্থানীয়ভাবে যাকে ‘আদম ব্যবসা’ বলা হয়। এই কাজে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েও পরিশোধ করতে না পারায় তিনি এলাকায় আসা-যাওয়া বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত জোরদার করেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি রাসূল সামদানী আজাদ।
পুলিশ জানায়, নিহতের অতীত কর্মকাণ্ড, আর্থিক লেনদেন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য করুন
