

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারত থেকে তুলা ও সুতা আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে গত ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের এক বৈঠকে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ভারতীয় সুতা রপ্তানিকারকদের বরাতে জানা গেছে- বাংলাদেশ সরকার ভারত থেকে আমদানিকৃত সুতার ওপর শুল্ক বসানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে ভারতের তুলা ও বস্ত্রখাতে।
বাংলাদেশ বিশ্বে তুলা আমদানির ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যদি বাংলাদেশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলার চাহিদা কমে যেতে পারে। এতে দেশটির তুলা উৎপাদক ও সুতা কারখানাগুলো আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্কহার ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। নয়াদিল্লিভিত্তিক বিশ্লেষক রাহুল চৌহান মন্তব্য করেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভারতের বাজারে তুলার দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ দেওয়ায় ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাণিজ্যিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের ২০২৫ সালের মে মাসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এতে বাংলাদেশের প্রায় ৪৭ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের রপ্তানি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যা ভারতের বাজারে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৪০ শতাংশের বেশি।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট
ডিএনএ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের আলোচনায় মূলত তুলা ও সুতা আমদানির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। গত বছর ভারত প্রায় ৩.৫৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সুতা রপ্তানি করে, যার সবচেয়ে বড় অংশ গেছে বাংলাদেশে।
যদিও তুলা ও সুতা আমদানিতে ভারত বাংলাদেশের প্রধান উৎস, তবে তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যবহৃত প্রস্তুত কাপড় রপ্তানির ক্ষেত্রে বর্তমানে চীন শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে শীতলতা দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তবে এসব অভিযোগকে ঢাকা কর্তৃপক্ষ বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে পদ্ধতিগত নিপীড়নের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
মন্তব্য করুন

