বুধবার
২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুমেকের জরুরি ওটিতে আগুন, রোগী-স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ০৮:২৫ এএম আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
সংগৃহীত
expand
সংগৃহীত

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর ভবনের তৃতীয় তলায় জরুরি অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (২০ মে) ভোর ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আগুনের পর মুহূর্তেই রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হন।

এ ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ।

ওয়ার্ডবয় রেজাউল জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হাসপাতালের স্টোররুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘন ধোঁয়ায় ওটি ও পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডের ভেতরে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। পরে মুমূর্ষু রোগীদের পেছনের দরজা দিয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

আইসিইউর কয়েকজন রোগীকেও সরিয়ে নেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে নার্সদের নিরাপদে বের করে আনেন। ধোঁয়ার কারণে দুইজন নার্স অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ জানান, প্রথমে বয়রা স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে, পরে আরও সাতটি ইউনিট যুক্ত হয়।

ভবনের বিভিন্ন গেটে তালা থাকায় উদ্ধারকাজে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় এবং তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। উদ্ধার অভিযানের শুরুতেই ভবনের বারান্দা থেকে চার থেকে পাঁচজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

রোগী ও স্বজনরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর আতঙ্কে সবাই দ্রুত নিচে নেমে হাসপাতালের মাঠে আশ্রয় নেন। অনেকে তাদের রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

তাদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা অপারেশন থিয়েটারে এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রহস্যজনক এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. হোসেন আলী জানান, প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট অথবা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় গ্রিল কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনায় দুইজন স্টাফ নার্স এবং ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হন বলে জানান হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আনসার কমান্ডার মো. আরিফুল ইসলাম।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন