

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় একটি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে অনন্যা প্রায় সাত ঘণ্টা নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে পুলিশ, প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় সন্ধ্যায় তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এমপির বাসভবনের সামনে অবস্থিত 'আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ' মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে সোমবার পুলিশের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা হলেও মঙ্গলবার সকালে এমপি গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে মাদ্রাসায় গেলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে নতুন করে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে এমপির মেয়ে অনন্যার সঙ্গে কয়েকজন অভিভাবকের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে রেক্সনা নামে এক নারী অভিভাবক আহত হন। এছাড়া নাসির উদ্দিন নামে এক শিক্ষকের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা এমপির বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এমপি ও তাঁর মেয়ে বাসভবনের ভেতরেই অবস্থান নেন।
সকাল প্রায় ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তাঁরা বাসভবনে অবরুদ্ধ থাকেন। পরে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশের সদস্য এবং বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁদের মধ্যস্থতায় অবরোধের অবসান হয় এবং এমপি ও তাঁর মেয়েকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস বলেন, শুরুতে প্রশাসনের কিছু গাফিলতি থাকলেও পরবর্তীতে পুলিশ পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করায় তারা পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, "ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও স্থানীয়দের নিয়ে আলোচনা করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।"