

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার নিখোঁজ ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া ইয়াসমিন জুইকে (১২) যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে যশোর কোতোয়ালি থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে সারাদিন তিনি কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে যশোরে পৌঁছালেন, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জুই সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের পাকুরিয়া গ্রামের তাইজুল গাজী ও হিরা খাতুনের মেয়ে। তিনি খোরদো বাজারের সালেহা হক উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলেও স্কুল শেষে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে জুইয়ের মা হিরা খাতুন কলারোয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার মডেল ওয়ার্ডের সামনে কিশোরীটিকে একা ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হয় হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন রওশন আরার। পরে তিনি তাকে হাসপাতালের পুলিশ বক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে বিষয়টি যশোর কোতোয়ালি থানাকে জানানো হলে পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
রওশন আরা জানান, সকালেও তিনি কিশোরীটিকে হাসপাতাল চত্বরে ঘোরাফেরা করতে দেখেছিলেন। রাতে একই স্থানে তাকে একা বসে থাকতে দেখে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেন।
হাসপাতাল পুলিশ সূত্র জানায়, কিশোরীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশের কাছে জুই দাবি করেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে থাকা দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই মনে করতে পারছেন না। তার ভাষ্য, এরপরের ঘটনাগুলো সম্পূর্ণ অস্পষ্ট।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, "কিশোরীর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি বিশেষ টিম কাজ করছে।"
অন্যদিকে, অপহরণের অভিযোগের সত্যতা, জুই কীভাবে যশোরে পৌঁছাল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
