শুক্রবার
৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোমিওপ্যাথিক তরল পানে ৫ জনের মৃত্যু, আত্মগোপনে চিকিৎসক

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় হোমিওপ্যাথিক ফার্মেসি থেকে অ্যালকোহল (মদ) কিনে খাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীসহ একে একে পাঁচজনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে দুপুরে পুলিশ তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করলেও অপর দুজনের বিষয়ে থানায় কোনো তথ্য নেই। তবে স্থানীয়রা তাদের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনার পর স্থানীয় হোমিও চিকিৎসক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মৃতরা হলেন- লাখাই উপজেলার মোড়াকড়ি গ্রামের মনোরঞ্জন দাস (৬০), সুজিত দাস (৩৫), ভাদিকাড়া গ্রামের নন্দলাল রবিদাস (৫২), তার স্ত্রী সুবি রবিদাস (৪০) এবং হবিগঞ্জ শহরের রঞ্জিত কুড়ি (৩৬)।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মনোরঞ্জন, সুজিত ও রঞ্জিত মোড়াকড়ি বাজারের ‘হ্যানিম্যান হোমিও হল’-এর মালিক সজল দাসের কাছ থেকে মদ কিনে নিয়মিত নেশা করতেন।

মঙ্গলবার রাতে ওই তরল সেবনের পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মনোরঞ্জনকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে সুজিতের এবং ঢাকায় নেওয়ার পথে রঞ্জিতের মৃত্যু হয়।

মোড়াকড়ি বাজারের জয় বাবা লোকনাথ মাছের আড়তের মালিক প্রদীপ দাস বলেন, ওই পাঁচজন নিয়মিত হোমিওপ্যাথিক ওষুদের দোকান থেকে মদ জাতীয় তরল কিনে নেশা করতেন। ওই তরল সেবনের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

বামৈ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কেএম জিয়া বলেন, নন্দলাল রবিদাস ও তার স্ত্রী সুবি রবিদাস স্থানীয় বাজারের একটি দোকান থেকে মদ কিনে সেবন করেছিলেন। পরে তারা বাড়িতেই মারা যান। পরে তাদের মরদেহ দাহ করা হয়।

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক দেবাশীষ দাস বলেন, কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয়। তবে ঘটনাপ্রবাহ সত্য হলে নেশার উদ্দেশে সেবন করা কোনো অ্যালকোহল জাতীয় পদার্থের বিষক্রিয়ায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এটি কেবল একটি সম্ভাবনা। নিশ্চিত হতে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বিকল্প নেই।

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, আমরা তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছি। একজনকে সমাহিত করার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পুলিশকে না জানিয়েই আরও দুজনকে দাহ করা হয়েছে। অন্য দুজনের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সজল দাসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন