

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জামালপুরে এইচএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন ১০০ পরীক্ষার্থী। বিষয়টি পরীক্ষা শেষে প্রকাশ্যে এলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ওই কক্ষে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীই সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের নিয়মিত পরীক্ষার্থী।
তারা বলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রশ্নপত্রে ২০২৫ সালের সিলেবাসের উল্লেখ দেখে তারা বুঝতে পারেন, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। দীর্ঘ দুই বছরের প্রস্তুতির পর এমন একটি ভুল তাদের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের এ-প্লাস বা কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের ক্ষতি হলে তার দায় কে নেবে?’
একই উদ্বেগ প্রকাশ করে পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, সারা দেশের পরীক্ষার্থীরা যেখানে নির্ধারিত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন, সেখানে শুধু তাদের ১০০ জনকে ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এখন তারা ফলাফল ও মূল্যায়ন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মীর শওকত আলম মীর বলেন, পরীক্ষার জন্য ২০টি করে প্রশ্নপত্রের বান্ডেল সরবরাহ করা হয়। ৪২০২ নম্বর কক্ষের জন্য পাঁচটি বান্ডেল খোলা হলে প্রতিটির গায়ে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র লেখা থাকলেও ভেতরে ছিল ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র। সিল করা বান্ডেল পরীক্ষা শুরুর আগে খুলে যাচাই করার সুযোগ না থাকায় দায়িত্বরত শিক্ষকরা সেটিই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেন। পরে পরীক্ষা শেষে ভুলটি ধরা পড়ে। তিনি জানান, এসব প্রশ্নপত্র মূলত অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য ছিল।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি দ্রুত শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ ওই ১০০ শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে তাদের উত্তরপত্র নমনীয়ভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ জন। আর পুরো কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন নয় শতাধিক পরীক্ষার্থী।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই দ্রুত শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন, যাতে পরীক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা না থাকে।
