

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা কয়েকদিনের তীব্র গ্যাস সংকটের পর হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে শনিবার সকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এতে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলোতে আবার উৎপাদন কার্যক্রম চালু হয়েছে।
সংকট কেটে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে শিল্প উদ্যোক্তা, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার বিকেল থেকে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় মাধবপুর উপজেলার ২৪টিসহ হবিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলের প্রায় ৮১টি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও গ্যাসের চাপ এতটাই কম ছিল যে উৎপাদন লাইন চালু রাখা সম্ভব হয়নি। এতে কয়েকদিন ধরে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়।
দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছাতে না পারার আশঙ্কায় পড়ে। এতে শিল্প খাতের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি আয় নিয়েও শঙ্কা দেখা দেয়।
তেলিয়াপাড়ার ফার ইস্ট স্পিনিং মিলের জেনারেল ম্যানেজার সুমন আহমেদ বলেন, শনিবার সকাল থেকে তারা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন। ফলে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে। কয়েকদিনের সংকটের পর গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
যমুনা শিল্প কারখানার জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী আবুল হোসেন জানান, শনিবার সকাল থেকে গ্যাসের চাপ বাড়তে থাকে। এর পর থেকেই উৎপাদন কার্যক্রম সচল হয়েছে এবং শ্রমিকরাও কাজে ফিরেছেন।
স্টার সিরামিকসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন মিঠু বলেন, সকাল থেকেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দ্রুতই কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
শাহজীবাজার জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের (জেজিটিডিএসএল) ব্যবস্থাপক মো. খালেদ গণি জানান, শনিবার সকাল ৮টা থেকে ছোট-বড় ৮১টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে গ্যাসের চাপ সন্তোষজনক রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, হবিগঞ্জ জেজিটিডিএসএলের আঞ্চলিক কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজার মো. আলী আক্কাছ বলেন, তার আওতাধীন ১৩টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শিল্পাঞ্চলেও গ্যাসের প্রবাহ বেড়েছে।
শিল্প উদ্যোক্তাদের আশা, গ্যাস সরবরাহের এই স্বাভাবিক পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দ্রুতই উৎপাদনের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থানও স্বাভাবিক থাকবে।


