

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জ জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের সংখ্যা, বর্তমান অবস্থা এবং এসব ভবন বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনের ছাদ থেকে রাবিশ ও ইট খসে পড়ে দপ্তরি কাম প্রহরী প্রকাশ দাস আহত হওয়ার ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তি করে হবিগঞ্জ বারের সদস্য অ্যাডভোকেট রুহিদাস রায় ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫ ধারায় আদালতে আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ জুন এনপিবি নিউজে প্রকাশিত “হবিগঞ্জে জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ে ছাদ ধসে দপ্তরি আহত, পাঠদান বন্ধ” শীর্ষক সংবাদে বিষয়টি জনসম্মুখে আসে। প্রায় ৩০ বছর পুরোনো বিদ্যালয় ভবনের ছাদ থেকে রাবিশ ও ইট খসে পড়ে দপ্তরি আহত হন। ঘটনার সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত সংবাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা ও জনস্বার্থের গুরুত্ব বিবেচনায় নেন। পরে হবিগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকির হোসেন টিপু ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫ ধারার ক্ষমতাবলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন।
প্রথম আদেশে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শাহআলমকে জেলার সকল ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা, অবস্থা এবং এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদন ৭ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় আদেশে হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি আহত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পাঠদান নিশ্চিত করতে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মেহেদী হাসান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শাহআলম এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম জাকিরুল হাসানকে ৭ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যালয়টিতে নিরাপদে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস.এম. জাকিরুল হাসান, মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান এবং মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানাকে।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকলকে আগামী ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তার স্বার্থে জেলার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার কিংবা বিকল্প নিরাপদ ভবনে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।