

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেড দ্রুত খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন কারখানার পোশাক শ্রমিকরা।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল থেকেই কোনাবাড়ী আমবাগ এলাকায় অবস্থিত কারখানার মূল ফটকের সামনে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন।
পরে তারা পাশের পিএন কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার সামনে গিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং ওই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদেরও আন্দোলনে সংহতি জানানোর আহ্বান জানান
খবর পেয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশের হস্তক্ষেপে শ্রমিকরা সেখান থেকে সরে গেলেও স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা কিছুটা বিরাজ করে।
তবে পুলিশ জানায়, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, হানিওয়েল গার্মেন্টসে জিএম ও অ্যাডমিন অফিসারের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন।
এর জেরে কারখানা কর্তৃপক্ষ চলতি মাসের ২৫ নভেম্বর শ্রম আইনের ১৩(১) ধারার আওতায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে।
পাশাপাশি ২৬ নভেম্বর কারখানার বিভিন্ন সেকশনের মোট ৫৮ জন শ্রমিককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক বলেন, আমরা কারখানা বন্ধ চাই না, আমরা শুধু আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই। পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। দ্রুত কারখানা খুলে দিলে আমরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবির প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে। তবে বেআইনি বা অযৌক্তিক কোনো দাবির প্রতি আমাদের সমর্থন নেই।
শ্রম আইনের ১৩(১) ধারায় কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলেও আমরা চাই বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হোক। একই সঙ্গে যেন নিরপরাধ কোনো শ্রমিক হয়রানির শিকার না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ–২ এর কোনাবাড়ী জোনের পরিদর্শক মো. মোর্শেদ জামান বলেন, “সকালে বন্ধ কারখানার শ্রমিকরা পিএন কম্পোজিট লিমিটেডের সামনে জড়ো হয়েছিল। আমরা তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছি। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।” তিনি আরও জানান, আগামীকাল রবিবার (৩০ নভেম্বর) কলকারখানা অধিদপ্তরে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে কারখানা পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভের ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকরা আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থার সমাধান হবে এবং তারা খুব দ্রুত আবার কাজে ফিরতে পারবেন।
মন্তব্য করুন
