

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা' বাস্তবায়নের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে অবিলম্বে প্রকল্পটির 'জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন ও তা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে গাইবান্ধাসহ তিস্তা অববাহিকার ৫ জেলার বিভিন্ন স্থানে গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল করেছে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ।
গতকাল বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের আলীবাবা থিম পার্কসংলগ্ন তিস্তা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী। সমাবেশ শেষে তাঁর নেতৃত্বে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মশাল প্রজ্বলনের মাধ্যমে আলোর মিছিল বের করা হয়।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই সময়ে গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা তীরবর্তী আটটি স্থানে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। নীলফামারীর জলঢাকার শৈলমারী ও বানপাড়া, কুড়িগ্রামের রাজারহাটের বুড়িরহাট ও উলিপুরের হোকোডাঙা, রংপুরের গঙ্গাচড়া এবং তিস্তা তীরবর্তী অন্যান্য এলাকাতেও গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, 'জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তবে তিস্তাপাড়ের মানুষ আর নতুন প্রতিশ্রুতি নয়, অবিলম্বে প্রকল্পটির 'জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন এবং তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেখতে চায়।'
তিনি আরও বলেন, 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি নদীভাঙন রোধ, তিস্তার দুই তীর সংরক্ষণ, নদী খনন, কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিল্পায়ন এবং উত্তরাঞ্চলের আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করার একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।'
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় তিস্তা অববাহিকার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন দ্রুত একনেক অনুমোদন, অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা সময়ের দাবি।'
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর কবির, বাবুল আক্তার, আশিকুর রহমান, রবিউল ইসলাম, স্থানীয় সংগঠক আব্দুস ছাত্তার, রফিকুল ইসলাম এবং সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান।
সমাবেশ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেকে অনুমোদন ও তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা, অভিজ্ঞ নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও তিস্তা আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে 'তিস্তা কর্তৃপক্ষ' গঠন, দক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, সরকারি ব্যবস্থাপনায় 'তিস্তা বন্ড' চালু, ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল, কৃষি অঞ্চল, সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা।
