

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিভিন্ন রাস্তার প্রবেশ পথেই চোখে পড়ে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা। পৌর শহর থেকে গ্রাম, এমনকি গহীন চরাঞ্চল- সর্বত্রই বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানি। কিন্তু এই আলোর উৎসবের মাঝেও বিদ্যুৎ না পাওয়ায় কয়েকটি পরিবারের ভরসা এখনো কেরোসিনের ল্যাম্পোতে। আর কুপির সেই ক্ষীণ আলোতেই পড়াশোনা করছে শিশুরা।
পৌর শহরের আব্দুল মজিদ মন্ডল হাইস্কুলের পূর্ব ধারে অন্ধকার সরু গলি পেরোতেই চোখে পড়বে ৪ পরিবারের একটি ছোট্ট বাড়ি। চারপাশে ঝলমলে বৈদ্যুতিক আলো জ্বললেও ঘুটঘুটে অন্ধকারে ছেয়ে গেছে বাড়িটি। প্রত্যেকের ঘরে জ্বলছে কেরোসিনের বাতি। আর সেই বাতির হলদে আভায় পড়ছে শিশুরা। শতভাগ বিদ্যুতায়নের এ যুগে কেরোসিনের বাতির আলোয় শিশুদের পড়াশোনার এমন দৃশ্য সত্যি বিরল। বিদ্যুতায়নের এ যুগেও যেন ৩ যুগ পিছিয়ে রয়েছে তারা।
স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আল মামুন বলেন, আমাদের চারপাশে অন্য শিশুরা পড়ছে বিদ্যুতের আলোয়। তাদের পড়াশোনা দেখে মন খারাপ হয়ে যায় আমাদের। আমাদেরও তো মন চায় পড়াশোনা করে মানুষ হতে। কিন্তু বাড়িতে তো বিদ্যুৎ নেই। বাতির আলোয় ভালোভাবে পড়াও চোখে দেখা যায় না। কী করবো- তবুও বাতির আলোতে পড়তে হয়।
ভুক্তভোগী চার পরিবার প্রধানের মধ্যে মো. রায়হান নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমরা পৌর শহরের স্থানীয় বাসিন্দা। আমাদের চারপাশে সবার বিদ্যুৎ আছে। একমাত্র অন্ধকারে বাস করছি আমরা। আমরা গরীব। সারাদিন খাটুনির পরে মন চায় রাতে একটু শান্তিতে ঘুমাতে। কিন্তু এই প্রচণ্ড গরমে ঘুমোতে পারিনা কেউ। কুপির আলোয় বাচ্চারাও পড়াশোনা করতে পারে না ঠিকমত।
সাবেক মেয়র আব্দুর রশিদ সরকার ডাবলু বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বাড়িটি ঘুটঘুটে অন্ধকার। বাতি দিয়ে ছেলেমেয়েরা পড়ছে। আধুনিক এ যুগেও পরিবারটির এ অবস্থা সত্যি দুঃখজনক।
সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, পৌর শহরের মতো জায়গায় এখনো কেরোসিনের আলোয় শিশুদের পড়াশোনা, এটি সত্যি দুঃখজনক। কিন্তু বিদ্যুতের পিলার থেকে দূরত্ব ১৩০ ফুটের বেশি হওয়ায় হয়তো পরিবারগুলো বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি। তবে নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।