

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে এক তরুণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত তপন কুমার বিশ্বাস (৩৫) উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের মোড়াগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন সার ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তপন কুমার বিশ্বাস মোড়া বাজারসংলগ্ন সড়কের পাশে চার শতাংশ জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেন।
একই গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম মোল্যা (৫০)-এর কাছ থেকে ওই জমি ক্রয়ের জন্য তিনি ধাপে ধাপে মোট ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় পার হলেও জমির দলিল লিখে দিতে গড়িমসি করতে থাকেন বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম। একপর্যায়ে জমি লিখে দেওয়া বা টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তপনের চাপ বাড়লে মঙ্গলবার সকালে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় রফিকুল ইসলাম তপনকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হুমকির পর তপন কুমার বিশ্বাস চরম আতঙ্কিত হয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা হার্ট অ্যাটাকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি মারা যান।
তপনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকালে এলাকাবাসী তার মরদেহ নিয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
পরিস্থিতি শান্ত করতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা ও পৌর বিএনপির সহসভাপতি মো. ইকরাম মিয়ার মধ্যস্থতায় উভয় পরিবারের মধ্যে একটি আপোষ মীমাংসা হয়। মীমাংসার অংশ হিসেবে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের পরিবার নিহত তপনের স্ত্রীর নামে ২৫ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক প্রদান করে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে জমি লিখে দিলে ওই চেক ফেরত নেওয়া হবে।
নিহত তপনের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা সনজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন টাকা নেওয়ার পরও জমি লিখে দেওয়া হয়নি। টাকা ফেরত চাইলে আমার ছেলেকে হুমকি দেওয়া হয়। সেই মানসিক চাপেই সে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। উভয় পরিবারের সম্মতিতে আপোষ মীমাংসা হয়েছে। কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মন্তব্য করুন
