

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে হাতুড়ি ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
আহত আলমগীর শেখ (৩৬) ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর তালমা নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটির আহ্বায়ক।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী সেতু ও বাজার সংলগ্ন এলাকায়। গুরুতর আহত অবস্থায় আলমগীর শেখকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাত প্রায় ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আলমগীর শেখ কদমতলী গ্রামের মৃত হালিম শেখের ছেলে এবং তালমা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
আহতের ভাই রিয়াদুল ইসলাম এ ঘটনায় বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে মামলা গ্রহণ করা হবে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীর শেখ সাংবাদিকদের বলেন, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কদমতলী সেতুর কাছে স্থানীয় রাশেদ মোল্লা ও মিলন শেখ তাকে পথরোধ করেন। তার অভিযোগ, তারা তাকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রতীকে ভোট দিতে চাপ দেন। তিনি এতে অপারগতা জানালে হামলাকারীরা তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আলমগীর শেখের ওপর হামলা চালানো হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়।
তবে হামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে আনছেন অভিযুক্ত পক্ষ ও বিএনপির স্থানীয় নেতারা। নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরিফ বলেন, “ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়। আলমগীরের সঙ্গে প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হামলা হয়েছে।”
এই দাবি নাকচ করে নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন বলেন, “এটি যদি রাজনৈতিক ঘটনা না হয়, তাহলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিএনপি নেতারা কেন প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছেন না?”
এদিকে, ফরিদপুর-২ আসনে জামায়াত-সমর্থিত জোটের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী হাসপাতালে গিয়ে আহত আলমগীর শেখকে দেখতে যান। তিনি বলেন, “নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করতেই পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অন্যদিকে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “হামলাকারীদের সঙ্গে আহত ব্যক্তির পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নয়। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
সংশ্লিষ্ট তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, এটি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের কারনেই ঘটেছে। রাশেদ মূলত আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি লাবু চৌধুরীর দল করে। তবে আহত আলমগীর শেখের দলীয় পদ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে বলেন নি।
অভিযুক্ত রাশেদ মোল্লা নিজের বক্তব্যে বলেন, তাদের সঙ্গে আলমগীর শেখদের প্রায় দশ বছর ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, তবে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনার পর ফরিদপুর-২ আসনে নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক থাকে।
মন্তব্য করুন
