

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফরিদপুর জেলার গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত খেজুর চাষে সংকট দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েক বছরে খেজুরগাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় খেজুরের রসও দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে সদর, নগরকান্দা, সালথা ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার অনেক গ্রামে খেজুর চাষ এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
সালথা উপজেলার কৃষক আরশাদ আলী বলেন, “আগে প্রতি গাছে প্রচুর রস পাওয়া যেত এবং তা বিক্রি করে আমরা ভালো আয় করতাম। এখন গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় রসও খুবই কম।”
ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল হকও অভিযোগ করেন, “প্রতি বছরই খেজুরের উৎপাদন কমছে। নতুন গাছ লাগানো হলেও জলবায়ু পরিবর্তন ও রোগবালাইয়ের কারণে দ্রুত ফলন পাওয়া যাচ্ছেনা।”
নগরকান্দার খেজুরচাষি তমিজ উদ্দিন জানান, “অনেক গাছ পুরোনো হয়ে গেছে এবং নতুন গাছ লাগানোর প্রক্রিয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারী সহযোগিতা ছাড়া আমরা সবুজায়ন ধরে রাখতে পারছি না।”
ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “ফরিদপুর জেলায় বর্তমানে ৯৫ হাজার খেজুরগাছ রয়েছে, যা থেকে প্রতিবছর প্রায় ৩৫০ মেট্রিক টন খেজুর গুড় উৎপাদন করা হয়। খেজুরের রস কমে যাওয়া শুধু চাষিদের আয়ের উপর প্রভাব ফেলছে না, বরং গ্রামীণ ঐতিহ্যকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমরা নতুন খেজুর গাছ রোপণ ও রোগমুক্ত জাতের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু করেছি। পাশাপাশি চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে যাতে কম সময়ে বেশি রস সংগ্রহ করা যায়।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় চাষিদের অংশগ্রহণ ছাড়া খেজুর চাষ ও রস উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে যুবকদের খেজুর চাষে উৎসাহিত করলে এই ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি সময়োপযোগী উদ্যোগ না নেওয়া হয়, ভবিষ্যতে খেজুর রস একটি বিলাসী পণ্য হিসেবে সীমিত হয়ে যেতে পারে।
মন্তব্য করুন
