

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ততই বাড়ছে সন্ত্রাসী তৎপরতার খবর। কোথাও প্রকাশ্যে ভয়ভীতি, কোথাও আবার গোপনে অবৈধ অস্ত্রের লেন3দেন—এমন তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এসব সন্ত্রাসী নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা কুমিল্লা জেলায় অন্তত ৩৪৭ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়ে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তালিকাটি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ শান্ত রাখতে আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে অস্ত্র উদ্ধারসহ আইনি ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চৌদ্দগ্রাম, মনোহরগঞ্জ ও বরুড়া উপজেলায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর মধ্যে সর্বাধিক ৩১ জন চৌদ্দগ্রামে।
কোতোয়ালিতে ৮ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ, সদর দক্ষিণ থানায় ৮ জন চাঁদাবাজ ও ৭ জন সন্ত্রাসী, চৌদ্দগ্রাম থানায় ৫ জন চাঁদাবাজ ও ২৬ জন সন্ত্রাসী।
নাঙ্গলকোটে ৪ জন চাঁদাবাজ ও ৪ জন সন্ত্রাসী। লাকসামে ৯ জন সন্ত্রাসী ও ৪ জন চাঁদাবাজ। মনোহরগঞ্জে আছে ৩০ জন সন্ত্রাসী।
ব্রাহ্মণপাড়ায় ৬ জন সন্ত্রাসী ও ৩ জন চাঁদাবাজ। বরুড়ায় ১৮ জন সন্ত্রাসী ও ৮ জন চাঁদাবাজ। চান্দিনায় ১২ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ। দাউদকান্দিতে ১০ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ। তিতাসে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ ১১ জন, হোমনায় ১২ জন সন্ত্রাসী ও ৪ জন চাঁদাবাজ। মেঘনায় ৬ জন চাঁদাবাজ ও ৩ জন সন্ত্রাসী। মুরাদনগরে ২২ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। দেবিদ্বারে ৯ জন সন্ত্রাসী। বাঙ্গরা বাজারে ৯ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তবে লালমাই ও বুড়িচংয়ের সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজের তালিকা দেওয়া হয়নি।
র্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো সময় অভিযান শুরু হবে।”
পুলিশ সুপার আরও বলেন, জেলার ভেতরের পাশাপাশি পাশের জেলা থেকে সন্ত্রাসীদের প্রবেশও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে, যাতে অবৈধ অস্ত্র দেশে প্রবেশ করতে না পারে।
নির্বাচনের দিন ঘিরে কুমিল্লার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে রয়েছে। ভোটাররা যেন ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
