

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডলু ও হাঙ্গর নদীসহ বিভিন্ন খাল-ছড়া ও জলাশয়ের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম পানির নিচে চলে গেছে। নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও নদীর তীব্র স্রোতে সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। অনেক পরিবার বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় রান্নাবান্না, শিক্ষা কার্যক্রম ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় আমন মৌসুমের বীজতলা ও সবজি চাষেরও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘসময় পানি জমে থাকলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাজির আহমদ শাহপাড়া সড়কটি সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। একই ওয়ার্ডের ওজাপাড়ায় মাস্টার আবদুল লতিফ ও আবদুল বারির দুটি মাটির বসতঘর ধসে গেছে। ডলু নদীর তীব্র স্রোতে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সরদানি পাড়া সড়কের একটি অংশ ভেঙে গেছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিয়ার খাল উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া চুনতি, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, কলাউজান, চরম্বা ও আমিরাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি ক্রমাগত বাড়ছে। বাড়ির আঙিনা, উঠান ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের নৌকা কিংবা হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের পুরাতন থানা সড়ক, দরবেশহাট ডিসি সড়ক এবং পোস্ট অফিসের দক্ষিণ পাশের সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় কোমরসমান পানি থাকায় ছোট যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ না থাকায় দুর্ভোগ কমছে না। খাল-ছড়া ভরাট, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে তাদের অভিযোগ।
আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, আমার ইউনিয়নের অন্তত ৮ থেকে ৯টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ৫ থেকে ৬টি গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজীদ বিন আখন্দ বলেন, “পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তার জন্য একাধিক টিম প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে ডলু ও হাঙ্গর নদীসংলগ্ন গ্রামগুলোতে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি।”