

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও যুবলীগের এক নেতার নামে টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারশিপ এবং তার স্ত্রীর নামে ওএমএস ডিলারশিপ থাকার অভিযোগ উঠেছে।
একই পরিবারের নিয়ন্ত্রণে একাধিক সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির ডিলারশিপ থাকায় স্বার্থের সংঘাত ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নিয়ে উপজেলাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন ছোট্টু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় জনৈক মোমেন হোসেন জয়ের দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় আসামি। স্থানীয় সূত্রে তিনি বড়হাতিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগ রয়েছে, তার নামে বড়হাতিয়া ইউনিয়নের টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারশিপ রয়েছে। অন্যদিকে তার স্ত্রী শাহীন আক্তারের নামে রয়েছে ওএমএস ডিলারশিপ। স্থানীয়দের দাবি, স্ত্রীর নামে ডিলারশিপ থাকলেও কার্যক্রম পরিচালনা করেন ছোট্টু নিজেই। ডিও গ্রহণ, খাদ্যশস্য উত্তোলনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে শাহীন আক্তারের উপস্থিতি কখনো দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় খাদ্যশস্য বিতরণ, ডিও বাণিজ্য ও বিভিন্ন ডিলারশিপ কার্যক্রমে ছোট্টুর ব্যাপক প্রভাব ছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি ভিন্ন বলয়ে অবস্থান নিয়ে খাদ্যশস্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে ওএমএসের চাল বিতরণে অনিয়ম, কৃষকদের কাছ থেকে নামে-বেনামে ধান সংগ্রহ করে সরকারি গুদামে সরবরাহ এবং উপজেলার বড়হাতিয়া মনুফকির হাট বাজারে রাতের আধারে স্বশস্ত্র বাহিনী দিয়ে সরকারি খাস জমি দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে। ২০২৫ সালে একটি চালকলের লাইসেন্স গ্রহণ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একই পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ডিলারশিপ প্রদান নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির ডিলার নিয়োগ নীতিমালায় স্বামী-স্ত্রীর নামে পৃথক ডিলারশিপ গ্রহণে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যেও স্পষ্ট মত পাওয়া যায়নি। তবে একই পরিবারের নিয়ন্ত্রণে টিসিবি, খাদ্যবান্ধব ও ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ ওঠায় স্বার্থের সংঘাত ও প্রভাবের কেন্দ্রীভবন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে দেলোয়ার হোসেন ছোট্টু বলেন, “টিসিবি, খাদ্যবান্ধব ও ওএমএস ডিলারশিপ নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ রিয়াদ কামাল রনি বলেন, “একই ব্যক্তির নামে একাধিক ডিলারশিপের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে স্বামী-স্ত্রীর নামে পৃথক ডিলারশিপের বিষয়ে নীতিমালা পর্যালোচনা করে বলতে হবে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।”
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ-বিন-আখন্দ বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
