বৃহস্পতিবার
১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে বিশাল গুদাম থেকে ৫৭৮ টন সরকারি চাল জব্দ, আটক ১

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল আত্মসাৎ করে নামিদামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কে বাজারজাত করার অভিযোগে বড় ধরনের অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে প্রশাসন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে প্রায় ৫৭৮ টন সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।

প্রশাসন ও র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাৎ ও অবৈধ বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিল।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সীতাকুণ্ড উপজেলার কদম রসুল এলাকায় পরিত্যক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান সালেহ কার্পেট মিলের বিশাল গুদামে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন, র‍্যাব-৭ ও খাদ্য বিভাগ। বহু বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ওই কারখানার গুদাম ব্যবহার করা হচ্ছিল সরকারি চাল মজুদ ও পুনরায় প্যাকেটজাত করার কাজে।

অভিযান চলাকালে গুদামের ভেতরে সারি সারি করে রাখা হাজার হাজার বস্তা চাল দেখতে পান কর্মকর্তারা। অনেক বস্তায় সরকারি খাদ্য কর্মসূচির চিহ্ন থাকলেও বিপুল পরিমাণ চাল বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির মোড়কে ভরা অবস্থায় পাওয়া যায়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সরকারি বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত চাল অসাধু ডিলার ও চোরাকারবারিদের মাধ্যমে গোপনে এই গুদামে এনে মজুদ করা হতো। পরে শ্রমিক দিয়ে সেগুলো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বস্তায় ভরে পাইকারি ও খুচরা বাজারে বিক্রি করা হতো।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেন বলেন,সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সাধারণ মানুষের অধিকার। অথচ একটি অসাধু চক্র সেই চাল আত্মসাৎ করে ভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত করছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও আঘাত।

তিনি আরও জানান, গুদাম মালিকের সরকারি চাল সংরক্ষণ কিংবা বাজারজাত করার কোনো বৈধ লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে সরকারি খাদ্যগুদাম, ডিলার ও পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত কারা এই চক্রকে সহযোগিতা করেছে, তা খুঁজে বের করা হবে।

প্রশাসনের ধারণা, দীর্ঘদিন ধরেই এই গুদাম থেকে শত শত টন সরকারি চাল চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি আড়ত ও খুচরা বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে। কোন কোন ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান এসব চাল কিনেছে এবং বাজারজাত করেছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেন, র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার তাওহীদুল ইসলাম, র‍্যাব-৭ এসপি সাইফুর রহমান, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা রাজিব কুমার দে-সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার তাওহীদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে একটি গুদামের সন্ধান পাওয়া গেছে যেখানে সরকারি চাল মজুদ রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

অভিযান শেষে পুরো গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয় এবং জব্দ করা চাল সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল নিয়ে এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন