

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে নিয়ে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীররক্ষা বাঁধ।
উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের ১নম্বর গাজীনগর এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন কয়েক একর বালিচর ড্রেজার দিয়ে কেটে নেওয়ায় সেখানে এখন নদীর অথৈ জল।
এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। হুমকির মুখে পড়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাজীনগর এলাকায় মেঘনার তীরে জেগে ওঠা বিশাল বালিচরে আশেপাশে কোনো খালি জায়গা না থাকায় স্থানীয় শিশু-কিশোররা নিয়মিত খেলাধুলা করত। গত সোমবার বিকালেও সেখানে ফুটবল খেলার আসর বসেছিল।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে এসে তারা দেখেন, রাতের আঁধারে প্রভাবশালী মহল ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে নেওয়ায় মাঠের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে এখন শুধু থইথই পানি।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলু মুন্সি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সোমবার বিকেলে এখানে ছেলেরা ফুটবল খেলল, আর সকালে এসে দেখি মাঠটাই নেই। ড্রেজার দিয়ে সব বালু নিয়ে গেছে। এই বালু কাটার ফলে নদী রক্ষা বাঁধটি এখন চরম ঝুঁকিতে। বাঁধ ভেঙে গেলে আমাদের ঘরবাড়ি সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
হাইমচর থানা পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতজনকে আসামি করে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) একটি মামলা দায়ের করা হয়।
আসামিরা হলেন- হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ দেলোয়ার হোসেন মিজির ছেলে আব্দুল কাদের (২২), পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার স্বরুপকাঠি এলাকার মোঃ নুরুল আমিনের ছেলে মোঃ আইয়ুব আলী (২০), নাজিরপুর থানার মধ্য কলারদোয়ানীয়া এলাকার মোঃ মোস্তফার ছেলে মোঃ আমান উল্যাহ (১৯), শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানার ঢাকেরহাটি এলাকার মোঃ শহিদুল আখন এর ছেলে মোঃ মোরশালিন (১৯), পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার কলারদোয়ানিয়া এলাকার মোঃ আবু হানিফ ছেলে মোঃ শফিকুল ইসলাম (২৩), হাইমচর থানার উত্তর বগুলা গ্রামের ছানাউল্লাহ মিজির ছেলে দোলোয়ার মিজি (৪৪), দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড চরভাংগা গ্রামের কাদের গাজীর ছেলে মনির হোসেন প্রঃ জুয়েল (৩৫)।
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, মামলার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামি দেলোয়ার ও জুয়েলকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
হাইমচর উপজেলার ইউএনও অমিত রায় জানান, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামতের নির্দেশনা দিয়েছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে আমাদের স্টকে থাকা ব্লক এনে প্রাথমিকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছি।
মন্তব্য করুন