

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে ছুরিকাঘাত করে বাড়ির সম্পর্কের চাচা মো. ছিদ্দিকুর রহমান ছিদ্দিককে (৩৭) হত্যার দায়ে ভাতিজা মো. সারোয়ার আলমকে (৩২) মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই আসামিকে অপর ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৪ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এ রায় দেন।
হত্যার শিকার ছিদ্দিকুর রহমান কুমিল্লা জেলা সদর দক্ষিণ থানার রাজাপাড়া এলাকার কাজীপাড়া গ্রামের সফর আলী বাড়ির মৃত হাজী আমির হোসেনের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার এবং ঘটনার সময় তার তিন বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান ছিল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. সারোয়ার আলম একই বাড়ির মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে। তিনিও পেশায় বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবসায়ী।
মামলার এজাহার ও অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রাঢ়া রাজাপুরা এলাকায় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের পাশে একটি কালো ড্রাম দেখতে পায় লোকজন। পুলিশকে জানালে পুলিশ লোকজনের উপস্থিতিতে ড্রামটি খুলে ভেতরে ছিদ্দিকের মৃতদেহ দেখতে পায়। মরদেহ উদ্ধার ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় শাহরাস্তি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল আউয়াল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এর আগে ছিদ্দিক বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা দক্ষিণ থানায় একটি জিডি করা হয়। ওই জিডির সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন।
মামলার পর ঘটনাটি তদন্ত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুরের পুলিশ পরিদর্শক মীর মাহবুবুর রহমান। তদন্তকালে তিনি ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার মিয়ার বাজার এলাকা থেকে আসামি সারোয়ার আলমকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাড়ির চলাচলের রাস্তা না দেওয়ায় ছিদ্দিককে হত্যার পরিকল্পনা করে আসামি সারোয়ার। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় কুমিল্লা দক্ষিণ থানার চাঁদপুর নামক স্থানের হাজারী পাম্পের দক্ষিণ পাশে ইতালি প্রবাসী মো. মাহবুবুর রহমান শামীমের বাড়ির চতুর্থ তলায় ফোন করে ডেকে নিয়ে প্রথমে তাকে আটকে রাখা হয়। পরে রাতে মারধর ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরদিন ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় একটি পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে ড্রামের মধ্যে মরদেহ ভরে চাঁদপুরের রাঢ়া রাজাপুরা এলাকায় ফেলে দিয়ে অটোরিকশাযোগে কুমিল্লায় চলে যায় আসামি।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কুহিনুর বেগম এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম শাওন।
পিপি কুহিনুর বেগম বলেন, মামলাটি পাঁচ বছরের বেশি সময় চলাকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামির অপরাধ স্বীকারের ভিত্তিতে তার উপস্থিতিতেই বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় অপর আসামি সারোয়ারের আপন ভাই নুরে আলমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন
