সোমবার
২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৯ দিন ধরে কিছুই খাচ্ছে না খানজাহান আলী মাজারের কুমিরটি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের কুমির
expand
খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের কুমির

১ জুন সন্ধ্যায় মাজারের দিঘিতে ফাতেমা নামের এক শিশুকে একটি কুমির টেনে নিয়ে যায় ও পরে শিশুটি মারা যায়। পরে ৩ জুন খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘি থেকে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় সেই কুমিরটিকে। বর্তমানে সেখানেই কুমিরটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নতুন ঠিকানায় এসে অভিমানে যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে কুমিরটি। ১৯ দিন কেটে যাওয়ার পরেও কোন খাবারই মুখে তোলেনি প্রাণীটি। মাছ, মুরগি কিছুই খাচ্ছে না প্রায় ৪৫ বছর বয়সী এই মাদি কুমির। এমনকি সহজ শিকারের জন্য জীবন্ত মুরগি দেওয়া হয়েছে, পানিতে বেঁধে দেওয়া হয়েছে হাঁস সেটিও খায়নি।

অ্যানিমেল কিপার ও জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউটরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কুমিরটির সেবা-যত্ন করছে। কিন্তু কোন কিছুতেই আগ্রহ নেই কুমিরটির।

তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরীসৃপ প্রাণী দীর্ঘ সময় না খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে। কুমিরটির শারীরিক অবস্থার আপাতত কোনও চিন্তার কারণ নেই।

বন্দিদশায় কিছুতেই থাকতে চাইছেনা সেই কুমির। মুক্ত হতে বারবার খাঁচার গেটে ধাক্কা দিচ্ছে।

কুমিরটিকে আবার মাজারের দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনার ডিএফও বলেন, মাজার কর্তৃপক্ষ যদি কুমিরের নিরাপত্তা এবং সেখানে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা উভয়ই নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিরটিকে ফেরত দেওয়া হতে পারে। তবে মানুষের পাশাপাশি কুমিরটির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

নির্মল কুমার পাল বলেন, মানুষ ও কুমির উভয়ের নিরাপত্তাই আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কুমিরটি মাঝেমধ্যেই দিঘি থেকে লোকালয়ে চলে যেতো। এতে যেমন মানুষের ওপর আক্রমণের ঝুঁকি থাকে, তেমনই ক্ষুব্ধ জনতা কুমিরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলার আশঙ্কাও থাকে।

মাজার কমিটি যদি দু-এক মাসের মধ্যে উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আমাদের জানায়, তবে কুমিরটিকে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যথায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।

ডিএফও নির্মল কুমার আরও বলেন, সরীসৃপ প্রাণী একবার খেলে দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকতে পারে। বাগেরহাট থেকে খুলনায় আনার পর থেকে এখন পর্যন্ত কুমিরটি কিছুই মুখে তোলেনি।

বন কর্মকর্তা জানান, খাবার না খেলেও কুমিরটির সুরক্ষায় কোনো কমতি রাখছে না বন বিভাগ। কুমিরটির থাকার পানি প্রতিদিন পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং গরম পড়লে এর শরীরে ফ্রেশ পানি স্প্রে করা হচ্ছে।

আপাতত আরও প্রায় এক মাস এটি সেখানে রাখা হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বন বিভাগের তত্ত্বাবধানেই থাকবে প্রাণীটি।

এর আগে, খানজাহান আলী মাজারের দিঘিতে একসময় ঐতিহ্যবাহী ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’ নামে দুটি বিখ্যাত কুমির ছিল। সেগুলো মারা যাওয়ার পর ভারতের মাদ্রাজ (চেন্নাই) থেকে কয়েকটি মিঠাপানির কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়।

তবে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে কয়েকটি কুমির মারা যায়। এখন এই একটি কুমিরই বেঁচে আছে।

জানা গেছে, মিঠাপানির কুমির লোনাপানির সুন্দরবনে ছেড়ে দিলে সেটি টিকে থাকতে পারবে না। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। আপাতত ও পুনর্বাসন কেন্দ্রেই থাকবে কুমিরটি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Argentina VS Austria
Scheduled
22 Jun, 11:00 PM
VS
World Cup