

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর এক সাধারণ বাসচালকের একটি ভিডিও বক্তব্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ দুই দশক ধরে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ায় বাসে আনা-নেওয়া করার পর, তারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য কী অবদান রাখছেন- এই ‘অপ্রিয়’ সত্যটিই তিনি তুলে ধরেছেন।
বক্তব্যটি একদিকে যেমন মানুষের মনে গভীর সহমর্মিতার জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে সামাজিক বৈষম্য নিয়ে তৈরি করেছে নতুন বিতর্ক।
একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ২০ বছর হাফ ভাড়ার সুবিধা ভোগ করে। এই দীর্ঘ সময়ে পরিবহন শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়েও তাদের শিক্ষাজীবন সহজ করতে ভূমিকা রাখেন।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সেই শিক্ষার্থীরা যখন পড়াশোনা শেষ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হন, তখন এই সাধারণ শ্রমিকদের জন্য তাদের কোনো বিশেষ অবদান বা কৃতজ্ঞতা চোখে পড়ে না।
চালকের যুক্তিটি ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও আবেগঘন। তিনি জানান, যে শিক্ষার্থী একসময় হাফ ভাড়ায় চলেছে, সে পরে ডাক্তার, প্রকৌশলী বা বিচারক হয়। কিন্তু একজন শ্রমিক যখন অসুস্থ হয়ে সেই চিকিৎসকের কাছে যান, তাকে অন্যদের মতোই পূর্ণ ফি দিতে হয়।
চিকিৎসকরা কখনোই ভাবেন না যে, এই চালক বা শ্রমিক তাকে ২০ বছর হাফ ভাড়ার সুবিধা দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, শ্রমিকদের ছাড় দিতে বাধ্য করা হলেও, উচ্চবিত্ত বা পেশাজীবীদের কাছ থেকে শ্রমিকরা কোনো ছাড় পান না।
পরিবহন শ্রমিকরা শিক্ষার্থীদের ছোট ভাই, সন্তান বা ভাগনের মতো স্নেহ করে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেন। অথচ সামান্য ভাড়া বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে বিরোধ হলেই শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে বাস আটকে দেয়, শ্রমিকদের মারধর বা দুর্ব্যবহার করে। চালকের আক্ষেপ- তখন কেউ ভাবে না যে এই শ্রমিকটি তার বাবা বা বড় ভাইও হতে পারত।
ভিডিওর মন্তব্যে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া দেওয়া একটি রাষ্ট্রীয় নীতি এবং দেশের স্বার্থে এটি মেনে চলাই আইন।
তবে এর বিপরীতে বড় প্রশ্নটি হলো- এই বাধ্যবাধকতার আইন ও ত্যাগের বোঝা কি শুধু সাধারণ গরিব শ্রমিকদের কাঁধেই থাকবে? রাষ্ট্র বা সমাজের উচ্চবিত্তরা কেন এই ক্ষতির দায় ভাগ করে নেয় না?
