

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নোয়াখালী পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল রোড যেন সংস্কারের পরও দুর্ভোগের সড়ক হয়ে আছে। বারবার সংস্কারের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও টেকসই হচ্ছে না সড়কটি। সর্বশেষ সংস্কারের এক দিনের মধ্যেই সড়কের পিচ উঠে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের মান যথাযথভাবে তদারকি না হওয়ায় প্রতিবছরই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এতে রোগী, স্বজন ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমার বদলে আরও বাড়ছে।
নোয়াখালী পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার সামনে অবস্থিত হাসপাতাল সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৫০ মিটার। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দুই পাশে রয়েছে বিপুলসংখ্যক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। ফলে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ও যানবাহন এই পথ ব্যবহার করে।
পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মেসার্স আব্দুল খালেক ট্রেডার্স প্রায় ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণকাজ করে। এরপর কয়েক বছরের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হলে চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়।
পরবর্তীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একই সড়ক সংস্কারের জন্য আবারও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই সময়ে একাধিক ধাপে সংস্কারকাজ করা হলেও সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। একই অর্থবছরে একাধিকবার সংস্কারের পরও সড়কটি আবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
পৌরসভার নথি অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ করে। চলতি অর্থবছরে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আবারও সংস্কার প্রকল্প নেওয়া হয়। কাজটি তিনটি ভাগে ভাগ করে কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স পায় ২৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৫ টাকা ব্যায়ে ১১৬ মিটার ইউনি-ব্লক ও ২০৪ মিটার সিলকোটের কাজ।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটির করা সিলকোটের অংশে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। গত ৩ জুলাই কাজ করার পর পরদিনই কয়েকটি স্থানে পিচ উঠে যাওয়ার অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
মাইজদী হাউজিং এলাকার এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, একটি সড়ক প্রত্যেক বছর সংস্কার করার নামে সরকারি টাকা হরিলুট করা হচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার অসুস্থ রোগী যাতায়াত করতে হয়।
নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে মাইজদী একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুল হাই নামে একজন জানান, ‘আমাদের এলাকায় বড় কোন হাসপাতাল না থাকায় আমরা মাইজদীতে চিকিৎসা নিতে আসি। কিন্তু বছরের অধিকাংশ সময় এই সড়কটিতে চলাচলে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। সারা বছরই দেখি এই সড়কটিতে সংস্কার কাজ চলে। কিন্তু কখনোই সড়কটি পরিপূর্ণ চলাচল উপযোগী পাইনা।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. হানিফ বলেন, টেন্ডারে কাজ পেলেও তিনি অন্য একটি পক্ষের মাধ্যমে কাজটি করাচ্ছেন। বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন এবং আবহাওয়া ভালো হলে তা ঠিক করে দেওয়া হবে।
নোয়াখালী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বেলাল আহম্মেদ খাঁন জানান, ‘যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাজের বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আমরা পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদেরকে চিঠি দিয়েছি। চিঠির উত্তরে তারা কাজটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধন করে দিবে বলে আমাদেরকে জানিয়েছে।’