

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকেই থানার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলায় অংশ নেওয়া অন্যদেরও শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেফতার করা হয়। থানার হাজতে থাকার সময় তিনি নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হন বলে পুলিশের দাবি। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকেলে কয়েকশ মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় এসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এ সময় কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে পুলিশের ছয় সদস্যসহ অন্তত ৮ জন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া আহত কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যদিকে সংঘর্ষে রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার, মমতাজ বেগম আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির ও মা নাছরিন বেগম অভিযোগ করেছেন, তাদের ছেলেকে আটক করে নির্যাতন করা হয়েছে।
তবে এ অভিযোগ নাকচ করে পুলিশ জানিয়েছে, রিয়াজ হাজতে থাকা অবস্থায় নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।