

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নে দখলদারদের অনুরোধে সরকারি দেলভাষানি খাল না কেটে সময় দিয়ে চলে এসেছেন সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তারা।
শনিবার ( ৪ জুলাই ) বেলা ১১টা পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাগেরহাট সদর উপজেলা কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেলভাষানি খালের পাড় গোমতি নামক স্থানে অবস্থান নেন সরকারি কর্মকর্তা ও শ্রমিকরা। উদ্দেশ্য দেলভাষানি খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা। খালের অবৈধ উচ্ছেদ শুরু করার আগেই সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন দখলদ্বার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ্ মোসা: আতিয়া খাতুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের খাল না কাটার জন্য অনুরোধ করতে থাকেন।
কিছুক্ষন পরে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন ঘটনাস্থলে পৌছান। তাদের সাথে একইভাবে খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ না করার জন্য বিভিন্ন যুক্তি দেন সেলিম কাজী।
তিনি দাবি করেন সরকারি খাল আটকে তারা ৫ লক্ষাধিক টাকার মাছ ছেড়েছেন। এখন কেটে দিলে তাদের ক্ষতি হয়ে যাবে। এসময় সেলিম কাজীর কথাকে গুরুত্ব না দিয়ে খাল কেটে দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক খালের অবৈদ উচ্ছেদ না করে দখলদ্বারকে ১৫ দিনের সময় দিয়ে চলে আসেন।
বাগেরহাট জেলার ৭৫টি ইউনিয়নে ছোট বড় কয়েকশ খাল অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
অন্যদিকে প্রকাশ্যে খাল দখলমুক্ত রাখার জন্য ঔদত্যপূর্ন আচরণ করলেও, খাল দখলের বিষয়টি অস্বীকার করেন বাগেরহাট সদর উপজেলার বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজী দাবি করেন, এই খাল দখল করেননি। আওয়ামী লীগ চলে যাওয়ার পরে এক বছর ধরে ছাত্রদল, যুবদল ও দলীয় লোকজন এই খাল ভোগ দখল করছে।
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, খাল খনন এবং অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ সরকারের চলমান কর্মসূচির অংশ। সারা দেশের মতো বাগেরহাটেও এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে দখলদারদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি খালে যারা মাছ চাষ করেছেন, তারা এতে উল্লেখযোগ্য অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। তাদের বিনিয়োগ যেন পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি আবেদনের পর মানবিক ও কৌশলগত দিক বিবেচনায় তাদের ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তাই তারা যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাছ তুলে নিতে পারেন। এরপর আইন অনুযায়ী খালটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, জেলা প্রশাসনের তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জেলার প্রাকৃতিক জলাধার ও খাল উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো খাল সংস্কারের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য সেচের পানি নিশ্চিত করা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ বিশেষ করে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী সব মানুষের জন্য সমানভাবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা।
তিনি বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৌশলগত বিবেচনায় দেলভাষানি খালের ক্ষেত্রে কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসা ব্যক্তিরা আমাদের কাছে সময় চেয়েছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শত শত সরকারি খাল অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকিও বাড়ছে। তারা দ্রুত সব সরকারি খাল দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

