

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষার প্রথম দফার রিভিউয়ে উত্তীর্ণ বরগুনা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষানবিশ আইনজীবী মিজানুর রহমান মারা গেছেন। তিনি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার মৃত্যুতে সহকর্মী শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মিজানুর রহমানের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ তার মৃত্যুর অন্যতম কারণ।
মৃত্যুবরণ করা মিজানুর রহমানের বাবা আজিজ শিকদার বলেন, প্রথম দফার রিভিউয়ে আমার ছেলে উত্তীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই ফলাফল বাতিল করে পুনরায় খাতা মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ছেলে আমার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।
তিনি বলেন, পুনর্মূল্যায়নের পর প্রকাশিত ফলাফলে আমার ছেলেকে অকৃতকার্য দেখানো হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট হলে আমার ছেলেও ওই মামলার রিটকারীদের একজন ছিলেন। হাইকোর্ট বিভাগ ওদের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু গতকাল রাতে বার কাউন্সিল রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে—একটি পত্রিকার নামে বানানো এমন একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়লে মিজানুর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মিজানুর রহমানের বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শিকদার বলেন, অসুস্থ বোধ করলে ওকে আমরা অ্যাম্বুলেন্স যোগে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজ সকাল ১১টায় ওকে মৃত ঘোষণা করে৷ তিনি দাবি করেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তার ভাই অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
রিভিউ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা বলেন, আদালতের রায় পাওয়ার পরও ভাইভা পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা না হওয়ায় তাদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। মিজানুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তারা দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়ন, ভাইভা পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা এবং রিভিউ উত্তীর্ণ ১,৩৪০ জনকে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান।
হাইকোর্টের রায়ের আলোকে লিখিত পরীক্ষার রিভিউতে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে আদালতের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে বহু শিক্ষানবিশ আইনজীবী মানসিক স্বস্তি ফিরে পাবেন এবং তাদের পেশাজীবনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে। নাহলে মিজানুর রহমানের মতো ঘটনা আরও অনেক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। প্রথম দফার রিভিউ শেষে অতিরিক্ত ১,৯১৪ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হলেও পরে সেই ফলাফল বাতিল করে পুনরায় মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুনরায় খাতা মূল্যায়ন করে প্রকাশিত ফলাফলে প্রথম দফায় উত্তীর্ণ প্রায় ১,৩৪০ জন পরীক্ষার্থীকে অনুত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে নতুন করে ১৫৫০ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়।
পরে এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে গত ১০ জুন হাইকোর্ট বিভাগ প্রথম দফার রিভিউ ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ওই রিভিউ উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের দ্রুত মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা গ্রহণ এবং আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির নির্দেশ দেন। গত ৩০ জুন হাইকোর্টের রায়ের অনুলিপি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে পৌঁছেছে।

