

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নারায়ণগঞ্জের বন্দরে হোসিয়ারি শ্রমিক আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেতা শোয়াইব রহমান সোহেবকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। তার সঙ্গে একই মামলার আরেক আসামি মো. সুমনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (০৪ শনিবার) দুপুরে র্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নাঈম উল হকের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে শুক্রবার (০৩ জুলাই) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের।
র্যাব জানায়, শোয়াইব রহমান বন্দর উপজেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় তিনি এক নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। গ্রেপ্তার হওয়া সুমন ওই মামলার ১০ নম্বর আসামি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর সালেহনগর এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে আলমগীর হোসেনকে মারধর করা হয়। পরে গ্যারেজের বাইরে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়।
স্থানীয়রা আলমগীরকে উদ্ধার করে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বোন কল্পনা বেগম বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারির পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শোয়াইব ও সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। পরে তাদের বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন শোয়াইব রহমান। তবে শেষ পর্যন্ত এ আসনে এনসিপি কোনো প্রার্থী দেয়নি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. শওকত আলী বলেন, শোয়াইব রহমান বর্তমানে দলের কোনো কমিটিতে নেই। বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্কের কারণে তাকে পরবর্তী কোনো কমিটিতে রাখা হয়নি। গত ছয় মাস ধরে তিনি দলের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন না।
তিনি আরও বলেন, শোয়াইবের গ্রেপ্তারের বিষয়টি তারা জেনেছেন। তবে বর্তমানে তিনি দলের সদস্য বা কোনো কমিটির অংশ না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না।
