

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


স্কুলের শ্রেণিকক্ষে প্রতিদিনের মতোই চলছে পাঠদান। শিক্ষক পড়াচ্ছেন, শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। সবাই আছে, শুধু নেই ফাতেমা আক্তার সিফা (৯)।
তার খালি বেঞ্চটি যেন নীরবে জানিয়ে দিচ্ছে এক হৃদয়বিদারক শূন্যতার কথা।
সিফা লক্ষ্মীপুরের রায়পুর মার্চেন্টস একাডেমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত বৃহস্পতিবারের মর্মান্তিক ঘটনায় মা ও দুই বোনের সঙ্গে প্রাণ হারায় সে।
ঘটনার দিন বড় বোন ঢাকা থেকে বেড়াতে আসায় সেদিন স্কুলে আসেনি সিফা। সহপাঠী ও শিক্ষকদের অনেকেরই বিশ্বাস, সেদিন ক্লাসে এলে হয়তো সে বেঁচে যেত।
সিফার সহপাঠী সাকাল জানায়, সিফা আমার খুব কাছের বন্ধু ছিল। বুধবার ক্লাসে আমাদের শেষ কথা হয়। সে বলেছিল বৃহস্পতিবার আমার বাসায় আসবে। আমি তাকে বলেছিলাম, শুক্রবার আসতে। সেদিন তাকে সময় দেব। কিন্তু এরপর আর তার সঙ্গে দেখা হয়নি। ওই দিনই ছিল আমাদের শেষ কথা।
আরেক সহপাঠী হাসিব বলে, সিফার জন্য আমরা সবাই কষ্ট পেয়েছি। আমরা তার ও তার পরিবারের হত্যার বিচার চাই। একই সঙ্গে এই ঘটনার রহস্যও উদঘাটন হোক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম মাহমুদ বলেন, সিফা ও তার পরিবারের জন্য আমরা বিদ্যালয়ে দোয়ার আয়োজন করেছি। সিফার বড় দুই বোন এবং বর্তমানে জীবিত থাকা ভাই সিফাতও একসময় এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
নিয়মিত উপস্থিত থাকা সিফার নাম আজ হাজিরা খাতায় চিরদিনের জন্য অনুপস্থিতির তালিকায়। সহপাঠীদের হাসি-আড্ডার মাঝেও তার খালি আসন যেন বারবার মনে করিয়ে দেয় এক অপূরণীয় ক্ষতির কথা।
স্থানীয়রা জানান, শাহীনুর বেগমের বড় মেয়ে সায়মা আক্তার, মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার এবং ছোট মেয়ে সিফা আক্তার মেধাবী ও নম্র স্বভাবের ছিল। পরিবারের সঙ্গে এলাকাবাসীর সুসম্পর্ক ছিল। তাই এ হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকাকেই শোকাহত করেছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার আমীর মাস্টারের বাসায় শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে সিফা আক্তারকে (৯) হত্যা করা হয়।
নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনায়েদ ইসলাম সিফাত সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি যদি অন্য কেউ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবাকে হারানো সিফাত ২০২৬ সালে হারিয়েছেন মা ও তিন বোনকে। একের পর এক স্বজন হারানোর এই বেদনাময় অধ্যায় শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো রায়পুরবাসীকেই গভীর শোকে আচ্ছন্ন করেছে।