শনিবার
২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের লম্বা চিকিৎসা বিল

ধর্ম উপদেষ্টা খালিদ একাই নিয়েছেন ৮২ লাখ টাকা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা মাত্র আঠারো মাস দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু বিদেশে চিকিৎসা বিল নিয়েছেন বেশ লম্বা। আইনগতভাবেই সেটা নিয়েছেন। তবে প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। যাদের হাতে দেশের স্বাস্থ্যখাতের মানোন্নয়নের দায়িত্ব, তারাই যদি চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হন, তাহলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে কী বার্তা যায়? অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রেও সেই প্রশ্নই উঠেছে। আইনগত বৈধতা থাকলেও নৈতিকতা ও জনআস্থার জায়গায় বিতর্ক রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্যমতে, ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন একাই নিয়েছেন ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা। খালিদ হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা নিয়েছেন থাইল্যান্ডে। তার দাবি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট বলেছিল হার্টে যে সমস্যা, তার চিকিৎসা দেশে নেই। বাংলাদেশে এ-সংক্রান্ত অপারেশনের ঝুঁকি রয়েছে। তারা থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

সরকারের অনুমোদন নিয়ে গত বছরের শেষ দিকে এবং চলতি বছরের প্রথম দিকে তিনি থাইল্যান্ডে যান। অপারেশন করান। প্রথমবার সঙ্গে ছিল চিকিৎসকও। পরের দফায় মেয়ে ও তার স্বামী। খালিদ হোসেন জানালেন, তার এখনো সমস্যা হয়। কিন্তু খরচ বেশি বলে যেতে পারছেন না।

অন্তবর্তী সরকারের আঠারো মাসের শাসনামলে দায়িত্বে থাকা অনেকেই বিদেশে চিকিৎসা বিল নিয়েছেন। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানও রয়েছেন এ তালিকায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। আঠারো মাসে বিদেশে চিকিৎসার জন্য তিনি সরকারি কোষাগার থেকে বিল নিয়েছেন ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার ২২৯ টাকা। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিদেশে চিকিৎসা খরচের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়। তিনি ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন। বিদেশে চিকিৎসা বাবদ ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা নিয়ে প্রথম অবস্থানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

এ বিষয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি খুব সততার সঙ্গে দায়িত্বপালন করেছি। একপর্যায়ে শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। দেশে চিহ্নিতই করা যাচ্ছিল না। পরে বাধ্য হয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সরকারের অনুমোদন নিয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়েছি। সেখানে আমি তিনবার চিকিৎসা নিয়েছি।’

খালিদ হোসেন ও সালেহউদ্দিন আহমেদের বাইরে তৃতীয় সর্বোচ্চ বিদেশে চিকিৎসা বিল নিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি নিয়েছেন ৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৪ টাকা। সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী নিয়েছেন ৭ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৯ টাকা।

৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৫ টাকা নিয়েছেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। ভূমি উপদেষ্টা হাসান আরিফ নিয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ২১৬ টাকা। ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৯ টাকা নিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. এম আমিনুল ইসলাম। খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার নিয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ১৩৪ টাকা।

এছাড়া পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দীন মাহমুদ নিয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৬৭ টাকা। ৩১ হাজার ৫২ টাকা নিয়েছেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান ২১ হাজার ৮০০ টাকা। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা শেখ মইনউদ্দিন চিকিৎসা বাবদ নেন ৪ হাজার ১৬০ টাকা।

মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের চিকিৎসার বিষয়টি তদারকি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তারা বিদেশে চিকিৎসা নিয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বিল জমা দিলে পরে তা মন্ত্রীদের একাউন্টে যোগ হয়।

দেশেও মন্ত্রী বা উপদেষ্টারা বিনা খরচেই চিকিৎসা নেন। তারা সাধারণত সরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মন্ত্রীদের নিকট থেকে সেই বিলের টাকা নেন না।

এ বিষয়ে সাবেক একজন মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মাঝে মাঝে দেশি হাসপাতালে মন্ত্রীদের চিকিৎসার বিল বড় অংকের হয়ে যায়। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই বিলের একটা কপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়ে দেন। এটা আনুষ্ঠানিকতা। কর্তৃপক্ষ যেন বলতে পারে তারা বিল পাঠিয়েছে। অডিট মোকাবেলা করার জন্য তারা এটা করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের চিকিৎসা বিল মেটানোর জন্য আইন আছে। কিন্তু এটা ধরে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। অর্থ বছর ধরে একটা বরাদ্দ থাকে। সেখান থেকে প্রয়োজন মতো বিল পরিশোধ করা হয়।’—যোগ করেন তিনি।

সূত্র: আগামীর সময়

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Croatia VS Ghana
Scheduled
28 Jun, 03:00 AM
VS
World Cup